খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় উপজেলার পাতাছড়া ইউনিয়নে অপহৃত বিএনপির সহ-সভাপতি ও মারমা সংগঠন ঐক্য পরিষদের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার আইন বিষয়ক সম্পাদক চাইথুই মারমাকে উদ্ধারের দাবিতে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচী অনুযায়ী গতকাল শুক্রবার (৯মার্চ) বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে খাগড়াছড়ি বাসিন্দারা।

এসময় তারা পাহাড়ী সন্ত্রাসী গোষ্ঠি ইউপিডিএফ কে নিষিদ্ধ করা সহ তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন। বিশেষ করে ইউপিডিএফ নেতা 'প্রসীত' বিরোধী হাজারো প্রতিবাদকারীদের শ্লোগানে একটাই জোর দাবি ছিল ''ইউপিডিএফ সন্ত্রাসী গোষ্ঠিকে নিষিদ্ধ কর, করতে হবে''।

সচেতন পার্বত্য খাগড়াছড়িবাসীর ব্যানারে কর্মসূচিতে মারমা, ত্রিপুরা ও চাকমা সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন ।

এসময় বিক্ষোভ মিছিল উত্তর সমাবেশ থেকে জেলার রামগড় উপজেলার পাতাছড়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ও মারমা ঐক্য পরিষদের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার আইন বিষয়ক সম্পাদক চাইথুই মারমাকে মুক্তিসহ পাহাড়ে চাঁদাবাজি, খুন, গুম ও অপহরণে ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপকে দায়ী করে সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবিতে আগামী সোমবার খাগড়াছড়িতে সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধের আহ্বান করা হয়।

গতকাল বেলা ১১টার দিকে শহীদ কাদের সড়ক থেকে একটি বিশাল মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে পৌরশাপলা চত্বরে মুক্ত মঞ্চে সমাবেশ করে।

সমাবেশে অপহৃত চাইথুই মারমার স্ত্রী হ্লাহরী মারমা অভিযোগ করেন, গত ৪ মার্চ ভোর রাতে ইউপিডিএফ’র ৫/৬ অস্ত্রধারী পাহাড়ি সন্ত্রাসী তার স্বামীকে তুলে নিয়ে যায়। অপহরণকারীদের মধ্যে তিনি একজনকে চিনেছেন। তার নাম মংসাথুই মারমা।

তিনি তার স্বামীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারে প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়ে বলেন, বহু আগ থেকে ইউপিডিএফ’র সন্ত্রাসীরা তার স্বামীকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে।

তাদের পরিবারের দাবি অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা ইউপিপিএফ(প্রসীত গ্রুপের) সদস্য।

সমাবেশে পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদেও খাগড়াছড়ি জেলা সভাপতি প্রকৌশলী লোকমান হোসেন ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের বিরুদ্ধে চাইথুই মারমাকে অপহরণসহ খুন, গুম, অপহরণ ও মুক্তিপন আদায়সহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের প্রতিবাদ এবং অপহৃতকে উদ্ধারের দাবিতে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে আগামী সোমবার খাগড়াছড়িতে সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধ আহ্বান করেন।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মনীন্দ্র লাল ত্রিপুরা, পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উল্লাহ,পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ(এমএন) গ্রুপের নেতা রাজ্যমনি চাকমা, ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক নেতা রিপন চাকমা ও মারমা নেতা উত্তম মারমা।

সমাবেশে বক্তারা ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বন্ধ না হলে আগামীতে ঘরে ঘরে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে জনগণকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, 'ইউপিডিএফকে প্রতিহত করতে হবে। এবার কোন এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করলে গণধালাই দেওয়া হবে'।

মারমা নেতা চাইথুই মারমা ছাড়াও ইউপিডিএফর বিরুদ্ধে গত ৬ মার্চ জেলার মানিকছড়িতে মোবাইল কোম্পানি রবি-এয়ারটেলের চার টেকনিশিয়ানকে অপহরণের অভিযোগ রয়েছে।

তবে এ সব অভিযোগ প্রত্যাখান করেছেন, ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের গণমাধ্যম শাখার মূখপাত্র নিরণ চাকমা। তিনি মুঠোফোনে বলেন, কোন অপহরণ ঘটনার সাথে ইউপিডিএফ জড়িত নয়। এ সব অভিযোগ ইউপিডিএফ’র বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।

আবু বকর/জেড