১১ দিন পর আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় আবার ইলিশ ধরতে পারবেন জেলেরা।
সরকার মা ইলিশ রক্ষায় চাঁদপুরের ৬০ কিলোমিটার নদী এলাকায় ৫ অক্টোবর থেকে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা, ইলিশ বিক্রি, পরিবহন ও মজুদ নিষিদ্ধ রেখেছিল।
তবে নিষিদ্ধ সময়েও এক শ্রেণির জেলে ইলিশ ধরা অব্যাহত রাখেন। একইভাবে এক শ্রেণির ইলিশ ক্রেতাও ইলিশ কেনা বন্ধ রাখেনি। এই ১১ দিন চাঁদপুর জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, কোস্ট গার্ড, মৎস্য বিভাগ ও র্যাবের সদস্যরা নদীতে ও জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালান।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সফিকুর রহমান জানান, চাঁদপুর সদর, হাইমচর, মতলব দক্ষিণ ও মতলব উত্তর উপজেলার পদ্মা-মেঘনা নদী এলাকায় চাঁদপুরের জেলা প্রশাসন গঠিত ৫৭টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালানো হয়। ৫ অক্টোবর থেকে আজ ১৫ অক্টোবর বিকাল ৫টা পর্যন্ত ১১ দিনে ১০৯টি অভিযান চালানো হয়। এ সময় চার হাজার ১৯৪ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়। এসব ইলিশের মধ্যে ১ হাজার ৩৯৫ কেজি তাজা ইলিশ মৎস্য হিমাগারে ও ২ কেজি লোনা ইলিশ মজুদ করা হয়। আটক করা হয় ৪০ লাখ ২৩ হাজার মিটার কারেন্ট জাল।
সফিকুর বলেন, ইলিশ ধরার ঘটনায় কারাদণ্ড দেওয়া হয় ১৩৫ জন জেলে ও ইলিশ-ক্রেতাকে। এঁদের মধ্যে ১১ জনকে দুই বছর করে এবং ৯৯ জনকে ১ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়। বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। ১১৬ জন থেকে মোট ৩ লাখ ২২ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। মামলা করা হয় ২১৫টি।
চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, ৮ বছরের মধ্যে এ বছর মা ইলিশ রক্ষায় রেকর্ড পরিমাণ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তার পরও কেউ কেউ ইলিশ ধরা, বিক্রি ও কেনা বন্ধ রাখেননি। এ জন্য তিনি আগামী দিনে জেলার বিভিন্ন উপজেলায়, প্রতিটি গ্রামে, পাড়া-মহল্লায় প্রতিরোধ কমিটি গড়ে তোলা হবে বলে তিনি জানান।
কেএইচ





