মহাজোট সরকারের সৃষ্টি ঢাকা সিটির ৬ মাসের কান্ডারি প্রশাসকরা ধাপে ধাপে জড়িয়ে যাচ্ছেন নানা অনিয়ম, দুর্নীতি,লোপাট, নিয়োগ, পদোন্নতি এবং মার্কেট দোকান বরাদ্দের কেলেঙ্ককারিতে। আর ঢাকার ওই কান্ডারিদের দুর্নীতি এবং লোপাটের বিষয় নিয়ে ব্যস্ত দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ।
জানা যায়, মাস ৪ আগে স্থানীয় সরকার সম্পর্কিত জাতীয় সংসদের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে দুর্নীতির আখঁড়া হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। প্রতিনিয়ত দুদকে জমা হচ্ছে ঢাকার ২ সিটির প্রশাসকের দফতরের দুর্নীতি এবং কোটি কোটি টাকার লোপাটের তথ্য উপাত্ত। পর্যায়ক্রমে ওইসব দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান এবং তদন্ত করে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে বলে জানা যায়। জানা যায়, ২০১১ সালের ২৯ ডিসেম্বের মহাজোট সরকার জাতীয় সংসদে বিল পাসের মাধ্যমে ডিসিসিকে ঢাকা দক্ষিণ ও ঢাকা উত্তর সিটিকর্পোরেশন নামে ২ ভাগ করে। একই সঙ্গে আইন পরিবর্তন করে ২ সিটিতে ৬ মাস মেয়াদে ২ প্রশাসক নিয়োগের বিধান রাখেন। এরপর ২০১১ সালের ৩ ডিসেম্বর প্রথম দফায় ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ২ প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়। ওই ধারা বাহিকতায় প্রতি ৬ মাস পর পর ২ সিটিতেই ২ জন করে প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।
ঢাকা উত্তরের প্রশাসকদের মধ্যে রয়েছেন: প্রথম খোরশেদ আলম চৌধুরী, শাহজাহান আলী মোল্লাহ, মো. রেজা খান, মো. আক্তার হোসেন ভুঁইয়া ও ফারুক জলিল এবং বর্তমানে আছেন রাখাল চন্দ্র বর্মণ।
আর ঢাকা দক্ষিণের প্রশাসকের মধ্যে রয়েছেন, প্রথম খলিলুর রহমান, জিল্লার রহমান, মো. নজরুল ইসলাম, মো. নাজমুল ইসলাম, মো. আলমগীর ও মো. ইব্রাহিম হোসেন খান এবং বর্তমানে আছে মো. শওকত মোস্তফা।
সিটি করপোরেশনের শ্রমিক লীগ নেতা মো. ইব্রাহিম ও আবদুর রশিদ এবং কর্মচারী নেতারা জানান, ঢাকার আগের প্রশাসকরা এখানে মধুর স্বাদ পেয়েছেন। তারা প্রত্যেকেই কলঙ্কের ছাপ রেখে যাচ্ছেন। তারা (প্রশাসকগণ) নানা অনিয়ম,দুর্নীতি এবং নিয়োগ বদলি বানিজ্যের এক কলঙ্কজনক ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন অবৈধভাবে মার্কেট,দোকান বরাদ্দ, উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ও ক্রয় বিক্রয়ের নামে ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন আদায়, অবৈধভাবে নিয়োগ,পদোন্নতি এং পদায়নের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্যের নজির স্থাপন করেছেন। এ ২ প্রশাসকই অবৈধভাবে কয়েক শত লোককে পদোন্নতি দেয় এবং আরো কয়েক শত লোক নিয়োগের নামে বাণিজ্য করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, তবে সদ্য বিদায়ী ঢাকা উত্তরের প্রশাসক ফারুক জলিল এবং দক্ষিণের প্রশাসক মো. ইব্রাহিম হোসেন খান মধুর স্বাদ আর বিরল সম্মানের চেয়ারে দীর্ঘদিন থাকার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন।
গত ১১ ডিসেম্বর তারা সর্বশেষ অফিস করেছেন। এ ২ প্রশাসককের মেয়াদ ৬ মাস বাড়ানোর জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু সরকার টের পেয়ে তাদের আবেদন আমলে নেয়নি। গত ৮ ডিসেম্বর মন্ত্রিসভা বৈঠকে তাদের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন খারিজ করে দেয়া হয়।
এদিকে ঢাকা সিটির প্রশাসকদের নানা অনিয়ম, অবৈধ নিয়োগ, পদোন্নতি, পদায়ন এবং মার্কেট দোকান বরাদ্দের নামে কোটি কোটি টাকার লোপাটের তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদক)।
গত ২৪ নভেম্বর দুদকের উপ পরিচালক মাহবুব আলম বাদী হয়ে রাজধানীর শাহবাগ থানায় ঢাকা দক্ষিণের প্রথম ও সাবেক প্রশাসক খলিুলুর রহমানসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে নীলক্ষেতে ফাঁকা জায়গায় ছাদের উপর ছাদ দোকান বরাদ্দের নামে শত কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। দন্ডবিধি ৪২০/৪৬৬/৪৬৮/৪০৯/১০৯ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) দারায় মামলাটি নং -৩৭ রেকর্ড করে শাহবাগ থানা।
আর এ মামলায় অভিযুক্ত ৯ আসামি হলেন, ডিএসসিসির সাবেক সাবেক প্রশাসক খলিলুর রহমান, সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সুলতান উল ইসলাম চৌধুরী, কানুনগো মো. আলী, সাবেক প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা বর্তমানে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. বিল্লাল হোসেন, সাবেক সম্পত্তি কর্মকর্তা বর্তমানে খুলনায় এক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিদারুলল আলম, সার্ভেয়ার মুরাদ হোসেন, সার্ভেয়ার সৈয়দ রুমান এবং নীলক্ষেতের এ অবৈধভাবে নির্মিত মার্কেটের দোকার-মালিক সমিতির সভাপতি একেএম শামসুদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা নীলক্ষেত এলাকায় অস্থায়ীভাবে ১৫ টাকা বর্গফুট ভাড়া নির্ধারণ করে ১১২টি দোকান ব্যবসায়ীদের বরাদ্দ দেয়। আর বরাদ্দের শর্তে বলা ছিল ব্যবসায়ীরা নিজ খরচে ছাদের উপর ছাদ অর্থাৎ ৪ তলা পাকা মার্কেট নির্মাণ করবে। কিন্তু অস্থায়ী বরাদ্দে কখনো স্থায়ী পাকা দোকান বানানোর বিধান নেই। তবে এ বেআইনী বরাদ্দের মাধ্যমে এ চক্রটি প্রায় ১০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়।
একে/ইআর





