খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙায় রাবেয়া বেগম (২৬) নামে এক গৃহবধূকে ছুরিকাঘাতে হত্যার চেষ্টা করে স্বামী আবদুল হালিম। সোমবার রাত পৌনে ৩টার দিকে উপজেলার আদর্শ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ছুরিসহ আব্দুল হালিমকে আটক করেছে। গুরতর আহত রাবেয়া বেগমকে খাগড়াছড়ি শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
রাবেয়ার বাবা সাইদুর রহমান জানান, পাঁচ বছর আগে একই গ্রামের মাটিরাঙা উপজেলার আদর্শ গ্রামের বাসিন্দা হাবিল মিয়ার ছেলে আব্দুল হালিমের সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে দেন। বিয়ের সময় সকল শর্ত পূরণ করার পরও যৌতুকের জন্য তার মেয়েকে প্রায়ই মারধর করা হতো। বিয়ের এ পর্যন্ত মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে প্রায় ৫ লাখ টাকা দিয়েছেন।
রাবেয়া বেগম জানান, তাদের জেরিন নামে দুই বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। স্বামী আব্দুল হালিম প্রায়ই যৌতুকের জন্য তাকে মারধর করতো। গত কোরবানির ঈদের আগে দুই লাখ টাকা এনে দেয়া পরও তাকে মারধর করে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। রাবেয়া বেগম বাপের বাড়ি চলে আসার পর হালিম আরও একটি বিয়ে করে। এ ঘটনায় তিনি ১০/১২দিন আগে খাগড়াছড়ি জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন।
তিনি আরও জানান, সোমবার পৌনে ৩টার দিকে হালিম হঠাৎ এসে উপস্থিত হয় এবং বাড়ির দরজা খুলতে বলে। রাবেয়া বেগম দরজা খুলতে অস্বীকৃতি জানালে দরজা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে বুকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। বাধা দিতে গেলে তার হাতও কেটে যায়। তার চিৎকারের বাড়ির লোকাজন এসে তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়।
মাটিরাঙা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরু মোহাম্মদ বলেন, ‘এ ঘটনায় আব্দুল হালিমকে আটক করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে। কিছুদিন আগেও মদ খেয়ে মাতলামি করার অপরাধে পুলিশ আব্দুল হালিমকে আটক করে। প্রায় আট মাস কারাভোগের ২০/২৫ দিন জেল থেকে মুক্তি পায়।
জেআই





