যুবদল নেতা সাইফুল ইসলাম সুমনকে আটকের পর থানায় এনে নির্যাতনের অভিযোগে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) মো. লোকমান হোসেনসহ ৫ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।
জেলা দায়রা জজ আদালতে বুধবার দুপুরে নির্যাতনের শিকার ওই যুবদল নেতার বাবা সামছুন নুর পাটোয়ারি বাদি হয়ে মামলাটি করেন। সাইফুল উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি।
পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন করে তার চোখ নষ্ট করে দেয়া হয়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন- রামগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোজাম্মেল হোসেন, লুৎফুর রহমান, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শরীফুল ইসলাম ও আবদুল মমিন।
বাদিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিক উল্যাহ।
তিনি জানান, জেলা ও দায়রা জজ মঞ্জুরুল বাছেত শুনানি শেষে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসক দিয়ে লক্ষ্মীপুর কারাগারে থাকা সাইফুল ইসলাম সুমনের চোখ পরীক্ষা করে আদালতে রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়নের চাঙ্গিরগাঁ গ্রামের সামছুন নুর পাটোয়ারির ছেলে যুবদল নেতা সাইফুল ইসলাম সুমনকে (৩২) ৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় আটক করে রামগঞ্জ থানা পুলিশ। পরে তাকে থানা হাজতে রেখে ওসি মো. লোকমান হোসেন ও অভিযুক্ত ৪ পুলিশ কর্মকর্তা তার ওপর নির্যাতন চালান।
একপর্যায়ে ওসি লোকমান ইনজেকশনের সুচ সুমনের দুই চোখে ঢুকিয়ে দেন। এতে সাইফুলের চোখের ভেতর থেকে তরল পদার্থ বের হয়ে চোখের মনি নষ্ট হয়ে যায়। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি না করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। তার বিরুদ্ধে সাজানো মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।
এদিকে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রামগঞ্জ থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) মো. লোকমান হোসেন। তিনি বলেন, সাইফুল ইসলাম সুমন পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি ও অস্ত্রসহ রামগঞ্জ থানায় ১০টি মামলা রয়েছে।
ঘটনার দিন সাইফুলকে আটকের পর স্থানীয়রা তাকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দেয়ার চেষ্টা করে। উত্তেজিত জনতার ইটপাটকেল নিক্ষেপে সাইফুলসহ ৫ পুলিশ সদস্য আহত হন বলে তিনি দাবি করেন। এ ছাড়া আহত সাইফুলকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ঢাকা, ১৩ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, কেএইচ





