কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে যৌথবাহিনী ও ছাত্রলীগের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বুধবার গভীর রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত চৌদ্দগ্রাম সদরের বিভিন্ন গ্রামে অন্তত ৭ জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীর বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে।

যৌথবাহিনী ও ছাত্রলীগের ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা চৌদ্দগ্রামের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সূচনা করেছে বলে উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার গভীর রাতে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনী ও মুখোশ পরিহিত ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সদরের জামায়াত নেতা পূর্বচাঁন্দিশকরা গ্রামের কাজী এয়াছিন, পশ্চিম ধনমুড়ি গ্রামের ফজলু মোল্লা, রামরায় গ্রামের মাসুদ করিম-মাসুম বিল্লাহ ও লক্ষ্মীপুর গ্রামের শিবির কর্মী লিমনে বাড়িতে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালায়।

ভুক্তভোগী পৌর জামায়াত নেতা পূর্ব চাঁন্দিশকরা গ্রামের কাজী এয়াছিন অভিযোগ করে বলেন, গত কয়েকদিন ধরে যৌথবাহিনীর ভয়ে বাড়িতে থাকতে পারছিনা। বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার গভীর রাতে যৌথবাহিনী ও মুখোশ পরিহিত ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা আমার বাড়িতে হানা দেয়। আমাকে খোঁজ করে না পেয়ে তারা কলাপসিবল গেইট ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে এলোপাতাড়ি ভাবে ফ্রিজ, টিভিসহ আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এসময় তারা মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায় এবং আমার পরিবারের সাথে খারাপ ব্যবহার করে।

এদিকে, উপজেলার পশ্চিম ধনমুড়ি গ্রামের ফজলু মোল্লার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে না পেয়ে ঘরের ভেতরে থাকা টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার, সোকেজ, সোফাসহ যাবতীয় আসবাবপত্র ব্যাপক ভাঙচুর করে। এসময় মুখোশ পরিহিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগ ক্যাডাররা মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। তাণ্ডবে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জামায়াত নেতা ফজলু মোল্লা দাবি করেন।

একইভাবে তারা লক্ষীপুর গ্রামের শিবির কর্মী লিমনের বাড়িতেও অভিযান চালিয়ে তাকে না পেয়ে ঘরের সকল জিনিসপত্র ভাঙচুর ও লুটপাট করে নিয়ে যায়।

এ বিষয় চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমির মো: শাহাব উদ্দিন ও সেক্রেটারি শাহ মিজানুর রহমান জানান, যৌথবাহিনী ও ছাত্রলীগ-যুবলীগ রাতের গভীরে একের পর এক জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে, যা পৃথিবীর ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। যৌথবাহিনী ও সশস্ত্র ক্যাডারদের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না নারী ও শিশুরা।

কেএইচ