গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জের ঘটনায় আটক সাঁওতালদের হাতকড়া খুলে দেওয়া হয়েছে। সোমবার বিকালে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুই সাঁওতালের হাতকড়া খুলে দেওয়া হয়।

কোমরে রশি দিয়ে হাসপাতালের বেডের সঙ্গে বেঁধে রেখে এবং হাতে হাতকড়া পরিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে হাইকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া চিকিৎসাধীন সাঁওতালদের হাতকড়া খুলে দেওয়ার আবেদন জানিয়ে একটি রিট করেন।

রিট আবেদনের ওপর শুনানি শেষে বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে হাইকোর্ট বেঞ্চ রংপুরে চিকিৎসাধীন দুজনসহ মোট তিন সাঁওতালের হাতকড়া খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

আদেশে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি,গাইবান্ধার এসপি এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়।

৬ নভেম্বর গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় সাহেবগঞ্জ আখের খামার এলাকার সাঁওতালপল্লিতে পুলিশের হামলায় তিনজন নিহত হন। আহত হন আরও বেশ কজন। এদের মধ্যে দুই সাঁওতালকে হাতকড়া পরা অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং একজনকে ঢাকায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।

আহত চরণ সরেন, বিমল কিসকো এবং দ্বিজেন টুডোর হাতকড়া খুলে দেওয়া হলোও বিছানার পাশেই দুই পুলিশ সদস্য এখনো পাহারায় রাখা হয়েছে।

হাসপাতালের বেডে শুয়ে চরণ সরেন জানান,হাতকড়া খুলে দেওয়ায় কিছুটা ভালো লাগছে। তবে এখনো আতঙ্ক কাটেনি। সুস্থ হয়ে উঠলে জেলে যেতে হবে। পরিবার-পরিজনের অনেকেই তার সঙ্গে দেখা করতে ভয় পাচ্ছে।

চিকিৎসাধীন বিমল কিসকো বলেন, আমরা আমাদের বাপ-দাদার ভিটা রক্ষা করতে গেলে পুলিশ আমাদের হত্যা করেছে। মামলা দিয়েছে। হাতকড়া খুলে দিলেও পুলিশ প্রহরায় চিকিৎসা নিতে এখনো অস্বস্তি বোধ হচ্ছে।

রমেক হাসপাতালের পরিচালক আ স ম বরকত উল্লাহ জানান,দুই সাঁওতালের অবস্থা আগের চেয়ে অনেক ভালো। আশা করছি তারা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।

রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক হাতকড়া খুলে নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন

রুবেল/নাজিব