শুক্রবার (২২ মে) কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ড আয়োজিত সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় চেক বিতরণ এবং সচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নয়। যেসব পরিবার সড়ক দুর্ঘটনায় স্বজন হারিয়েছে, তাদের প্রতি সমবেদনা জানাতেই তিনি সেখানে এসেছেন। সাম্প্রতিক এক দুর্ঘটনায় ঈদের আগে ১২ জন নিহত ও আটজন আহত হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি নিহতদের পরিবারের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সরকারের দায় রয়েছে এবং সরকার সেই দায় এড়াতে চায় না। তবে পরিস্থিতির উন্নতিতে পরিবহন মালিক, চালক ও সাধারণ মানুষ- সবার সম্মিলিত দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন।

শেখ রবিউল আলম বলেন, আনফিট বা ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন সড়কে চলতে দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি দক্ষ চালকের হাতেই যানবাহন তুলে দিতে হবে। শুধু সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানালেই হবে না, পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্টদেরও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ ইন্টারসেকশনগুলোতে আন্ডারপাস, ওভারপাস এবং ইউটার্ন সুবিধা বাড়ানো গেলে দুর্ঘটনা অনেকটাই কমানো সম্ভব। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সম্প্রসারণের কাজও চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।

সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র হয়তো হারিয়ে যাওয়া স্বজনকে ফিরিয়ে দিতে পারবে না, তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে সহায়তা করার চেষ্টা করবে। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি মারা গেলে সেই পরিবারকে কীভাবে সহায়তা দেওয়া যায়, তা নিয়ে সরকার কাজ করছে। শিক্ষা, চাকরি ও অন্যান্য সেবায় দুর্ঘটনাকবলিত পরিবারের সদস্যদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে তিনি সবাইকে সড়ক ব্যবহারে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। তার ভাষ্য, নিজের নিরাপত্তার পাশাপাশি অন্যের নিরাপত্তার বিষয়েও সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

এর আগে ঈদযাত্রা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে মেঘনা-গোমতী সেতু টোল প্লাজা (দাউদকান্দি টোল প্লাজা) পরিদর্শন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। এ সময় তিনি টোল প্লাজার কার্যক্রম তদারকি করেন এবং যাত্রীসেবা আরও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

পরিদর্শনকালে রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ ও সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক উপস্থিত ছিলেন।

এনএইচ