বেনাপোল চেকপোস্টে ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বন্দর শ্রমিকদের মধ্যে ব্যাপক ভাংচুর ও সংঘর্ষের ঘটনায় গতকাল রোববার গভীর রাতে কাস্টমস ও পুলিশের পক্ষ থেকে ১৬ জনকে আসামী করে পৃথক ৩টি মামলা দায়ের করা হযেছে।
সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বেনাপোল বন্দরের একাংশে মালামাল লোড- আনলোড ও ডেলিভারি বন্ধ করে রেখেছে বন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিকরা। আজো বন্দরের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
চেকপোস্ট কাস্টম অফিস ভাংচুরের প্রতিবাদে বেনাপোল কাস্টমস অফিসার্স এসোসিয়েশন আজ সোমবার সকালে কাস্টম হাউসে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। পৌর কাউন্সিলর ও বন্দর হ্যন্ডলিং শ্রমিকরা ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ আলীসহ পুলিশ ৭ জনকে আটক করেছে। সংঘর্ষের সময় ৪০/৫০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করা হযেছে। বর্তমানে হ্যান্ডলিং শ্রমিকরা কাজে যোগদান না করে বন্দরের সামনে অবস্থান নিয়েছে।
তবে বেনাপোল-পেট্রাপোল দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। বর্তমানে বন্দর অভ্যন্তরে কয়েকশ’ পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়েছে। সংঘর্ষের পর থেকে গোটা চেকপোস্ট এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
উল্লেখ্য, রোববার দুপুরে বেনাপোল পৌরসভার কাউন্সিলর ও স্থলবন্দর হ্যাল্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুজ্জামান রাশেদ আলী তার আত্মীয় শাহিদাকে সাথে নিয়ে বেনাপোল ইমিগ্রেশনে যান। এসময় ওই পাসপোর্ট যাত্রীকে (সাহিদা) পুলিশ অহেতুক প্রশ্ন করে বেশ কিছুক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখে। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে সংঘর্ষ সৃস্টি হয়।
বিষয়টি বন্দরের সাধারণ শ্রমিকরা জানতে পেরে চরম ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠেন। তারা সংঘবদ্ধ হয়ে লাঠিসোটা নিয়ে ইমিগ্রেশন ভবনে ঢুকে ভাঙচুর চালান। এনিয়ে ইমিগ্রেশন পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। ঘটনাটি ইমিগ্রেশন পুলিশ বেনাপোল পোর্ট থানা ও শার্শা থানাকে অবহিত করলে ওই দুই থানার পুলিশ অ্যাকশানে নামে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে অন্তত ৪০ রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে। গুলির শব্দে চেকপোস্ট এলাকার দোকানপাট মুহূর্তের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়। পথচারীসহ পাসপোর্টধারী যাত্রীরা দিকবিদিক ছোটাছুটি করে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান।
পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ার সেলের আঘাতে ১০ জন আহত হন। আহতরা হচ্ছেন- রাশেদ আলী কাউন্সিলর, সাংবাদিক মিলন হোসেন খান, শ্রমিক ইদ্রিস আলী, আরাফাত আলী, পুলিশ কনস্টেবল শাখাওয়াত, মেজবা, একলাসসহ আরো তিন পুলিশ।
শ্রমিক নেতা আহত ও আটকের প্রতিবাদে স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিকরা বেনাপোল বন্দরে লোড-আনলোড বন্ধ করে বন্দরের সামনে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশ যৌথভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়।
এ ব্যাপারে ইমিগ্রেশন পুলিশের পরিদর্শক আসলাম খান জানান, রাশেদ কাউন্সিলরের নেতৃত্বে বন্দর শ্রমিকরা চেকপোস্টের ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। শ্রমিকদের হামলায় অন্তত ৬ জন পুলিশ আহত হয়েছেন। পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি সম্পত্তি ক্ষতির ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে কাউন্সিলর রাশেদসহ ৭ জনকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান। আটক অন্যরা হলেন-শ্রমিক ইদ্রিস আলী, রাসেল, মনিরুজ্জামান, পাসপোর্টধারী মহিলা যাত্রী শাহিদা খাতুন ও তার স্বামী আসলাম হোসাইন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেনাপোলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
কেএইচ





