ঝিনাইদহে এক গৃহবধুকে বেধড়ক পিটিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে স্বামী ও তার পরিবার। নির্যাতিত গৃহবধুর নাম রুমা খাতুন (২২)।  শহরের পল্লী বিদ্যুৎ অফিস এলাকার রাউতাইল গ্রামে বসবাস তাদের। মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, প্রায় ৭ বছর আগে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ধোপাবিলা গ্রামের নুর ইসলামের মেয়ে রুমা খাতুনের বিয়ে হয় রাউতাইল গ্রামের মোজাম হোসেনের ছেলে ফিরোজ হোসেনের সাথে। পরবর্তীতে কণ্যা সন্তান হওয়ার অজুহাতে প্রায় তাকে নির্যাতন করা হতো।

আহত গৃহবধুর বড় বোন রিনা খাতুন জানান, ১ম স্ত্রীর সন্তান না হওয়ায় স্বজনদের ফুসলিয়ে ৮ম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় রুমাকে বিয়ে করে ফিরোজ হোসেন। বিয়ের পর রুমার কোল জুড়ে ফুটফুটে ২টি কণ্যা সন্তানের জন্ম হয়। এর পর থেকে শুরু হয় তার উপর নির্যাতন। সন্তান দুটি মায়ের কাছে না দিয়ে ঝিঁয়ের মত ব্যবহার শুরু করে সতিন নাজমা খাতুন, শ্বাশুড়ি মনোয়ারা খাতুন ও স্বামী ফিরোজ হোসেন। রুমা খাতুনের কোন অভিভাবক না থাকায় দিনের পর দিন এ নির্যাতন সহ্য করে আসছিল। পরবর্তীতে মঙ্গলবার সকালে শ্বাশুড়ি মনোয়ার খাতুন, সতিন নাজমা খাতুন, স্বামী ফিরোজ হোসেন তাকে ঘরে আটকিয়ে বেধড়ক মারপিট শুরু করে।

পরে হত্যার উদ্যেশ্যে গায়ে কেরোসিন ঢেলে দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। সেখান থেকে রুমা খাতুন জীবন বাঁচানোর জন্য দৌড়ে পালিয়ে ঝিনাইদহ শহরের একটি বাড়ীতে আশ্রয় নেয়।
পরে তাকে ঝিনাইদহ সদর হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ফিরোজ হোসেন ও তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা পলাতক থাকায় তাদের কারো সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল বলে জানিয়েছেন গৃহবধু রুমার স্বজনেরা।

 

হাবিব/জারিফ