কুষ্টিয়ায় ব্যস্ততা বেড়েছে মুড়িপল্লীর কারিগরদের। রমজান মাসে রোজাদারদের মুড়ির যোগান দিতে এখন ব্যস্ত সময় যাচ্ছে কুষ্টিয়ার চার উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মুড়ি ব্যবসায়ীরা। হাতে ভাজা মুড়ির দাম বেশি হলেও কুষ্টিয়ায় এ মুড়ির কদর সব চেয়ে বেশি।

মুড়ি পল্লী খ্যাত কুষ্টিয়ার খোকসার মাছুয়াঘাটা গ্রামের মুড়িওয়ালারাদের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। মুড়ি ভেজে পাইকারদের হাতে তুলে দিতে রমজানের আগেই ব্যস্ত হয়ে পড়েছে খোকসা উপজেলার মাছুয়াঘাটা মুড়িপল্লীর বাসিন্দারা।

এ গ্রামের প্রায় শতভাগ পরিবারেরই পেশা মুড়ি ভাজা ও বিক্রি করা। এ গ্রামের বাসিন্দারা তাদের আদি পেশা হিসেবে ধরে রেখেছেন এটিকে। সারা বছরই এ কাজ করে তাদের সংসার চলে। রমজান মাস এলেই তাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। এই এলাকার শিশু থেকে বৃদ্ধা সবাই এখন মুড়ি ভাজার কাজে ব্যস্ত।

রমজানের আগেই তারা মুড়ি ভেজে মজুত রেখে বাড়তি আয় করেন। চাহিদা এবং জনপ্রিয়তায় তাদের যাতে কোনো সঙ্কট না হয় এজন্য তারা মুড়ি ভাজায় ব্যস্ত রয়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, মাছুয়াঘাটা গ্রামের প্রতিটি পরিবারই মুড়ি ভাজা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। রমজান মাসে রোজাদারদের কাছে ইফতারির প্রধান উপাদান হিসেবে ব্যবহার হয় অতি সুস্বাদু ও মিষ্টি মোটা চালের মুড়ি। মুড়ি তৈরির কারিগররা জানান, রমজান মাসে চাহিদা তো রয়েছেই, তারপরও সারা বছর হাজার হাজার মণ মুড়ি এ গ্রাম থেকে পাইকার ও আড়তদাররা সরবরাহ করেন।

কেমিক্যালমুক্ত হাতে ভাজা ও স্বাদে অতুলনীয় হওয়ায় দিন দিন মানুষের কাছে এ মুড়ি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। মুড়ি গ্রামের অভিভাবক প্রদীপ মণ্ডল ও রবি বলেন, এ গ্রামের মুড়ি দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি হয়। প্রতিদিন গড়ে ৬০০ মণ মুড়ি উৎপাদন করা হয়। আমাদের এখানে বিদ্যুৎ নেই। ভালো নয় যাতায়াত মাধ্যমও।

উন্নয়নের ছোঁয়াবঞ্চিত আমাদের গ্রামের প্রতি কারোরই মাথাব্যথা নেই। তবে বর্ষাকালে আমাদের বেশি কষ্ট হয়। এমন হাজারও কষ্ট আর সীমাহীন দুর্দশার মধ্যেও ওরা মুড়িভাজা পেশাতেই থাকতে চায়। এজন্য ওদের মৌলিক চাহিদাটুকু মেটানো প্রয়োজন। আর প্রয়োজন বিত্তশালী মানুষের সামান্য সহানুভূতি।

তাহলেই ওরা টিকে পারবে। মুড়ি ব্যবসায়ী শাহজামাল জানান, অনেক ব্যবসায়ী পুঁজি সংকটের কারণে রমজান মাসে মুড়ির প্রয়োজনীয় যোগান দিতে পারছেন না।

চাহিদার তুলনায় যোগান কম থাকায় এবার মুড়ির মূল্য একটু বেশি। কুষ্টিয়া পৌর বাজারে হাতে ভাজা মুড়ি গতবার ছিল ৭৬-৮০ টাকা এবং মেশিনে ভাজা মুড়ি ৪৫-৪৮ টাকা কেজি। কিন্তু এবার হাতে ভাজা মুড়ি ৯০ থেকে ১০০টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

পৌর বাজারের মুড়ি ব্যবসায়ী আজমত আলী জানান, মেশিনে ভাজা মুড়ির তুলনায় হাতে ভাজা মুড়ির চাহিদা বেশি। আবার দামও বেশি। খোকসার মুড়ি পল্লীর বাসিন্দা জয়গোপাল, রহমান আলী, জাকের প্রামানিক জানান, মুড়ি তৈরির প্রধান উপকরণ ধানসহ সব উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে সেই কারনে বাজারে মুড়ির দামও বেড়েছে।

তবে কমেছে লাভের অংশ। মুড়ি পল্লীর বাসিন্দা উপেন্দ্র নাথ অধিকারী জানান, এ ব্যবসায় লাভ আছে। কিন্তু পুঁজি সংকটই তাদের প্রধান সমস্যা। এ কারণে রমজান মাসে চাহিদা মাফিক মুড়ি সরবরাহ করতে পারছেন না তারা।

এসএইচ