জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর আমির ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের ছেলে রিফাত আবদুল্লাহ খানকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দলটির কেন্দ্রীয় একটি সূত্র।
শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরার একটি স্কুলে এসএসসি পরীক্ষা অংশ নিয়ে বের হওয়ার পর তাকে আটক করা হয়েছে বলে ওই সূত্রটি জানিয়েছে। রিফাত উত্তরার হলি চাইন্ড স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র বলে জানা গেছে।
উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, কোন পরীক্ষার্থী আটক বা গ্রেফতারের তথ্য তার কাছে নেই।
তবে আটকের বিষয়ে র্যাবের মিডিয়া উইংয়ের সহকারী পরিচালক মাকসুদুল আলম কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন।
অপরদিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (জনসংযোগ) মাসুদুর রহমান জানান, কোন পরীক্ষার্থী আটকের সংবাদ গোয়েন্দা অফিসে নেই।
তবে, পুলিশের অপর একটি দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে উত্তরা হাইস্কুলে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন রিফাত। এসময় সাদা পোশাকে ডিবি পুলিশের একটি দল স্কুলে আসেন। এসময় পরীক্ষার হল থেকেই তাকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়।
অপরদিকে, স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে সাদা পোশাকধারীদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা জানায় তারা ডিবির সদস্য।
জামায়াতের নিন্দা
এদিকে, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের পুত্র রিফাত আবদুল্লাহ খানকে আজ এস.এস.সি পরীক্ষা দেয়ার সময় পরীক্ষার হল থেকে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যায়ভাবে আটক করার ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। আজ ২০ ফেব্রুয়ারী এক বিবৃতির মাধ্যমে তিনি এ নিন্দা জানান।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের পুত্র রিফাত আবদুল্লাহ খানকে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্পূর্ণ অন্যায় ও অযৌক্তিকভাবে পরীক্ষার হল থেকে আটক করেছে।
একজন রাজনৈতিক দলের নেতা হওয়ার কারণে কারো সন্তানকে বিনা কারণে এভাবে আটক করা সম্পূর্ণ অন্যায় ও অমানবিক। একজন পরীক্ষার্থী ছাত্রকে অমানবিকভাবে সরকার আটক করে তার শিক্ষা জীবন ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করছে।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার হীন উদ্দেশ্যেই সরকার রিফাত আবদুল্লাহ খানকে আটক করে তার শিক্ষা জীবন ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
সরকারের এ অন্যায়, অযৌক্তিক ও অমানবিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়ার জন্য আমি দেশী-বিদেশী সকল মানবাধিকার সংস্থা এবং বিবেকবান দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের পুত্র রিফাত আবদুল্লাহ খানকে অনতিবিলম্বে মুক্তি দিয়ে তাকে এস.এস.সি পরীক্ষায় নির্বিঘ্নেঅংশ গ্রহণ করে পরীক্ষা সমাপ্ত করার সুযোগ দেয়ার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
এদিকে, প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে জামায়াতের প্রেস রিলিজে আরও বলা হয়, রিফাতকে মহানগর গোয়েন্দা কার্যালয়ে ডিবি পুলিশের এএসপি শাহজাহানের তত্ত্বাবধানে নেয়ার পর তাকে নিয়ে তার বিভিন্ন আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে অভিযানে বের হয়েছে।
শিবিরের নিন্দা
এদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের ছেলে এসএসসি পরীক্ষার্থী রিফাত আব্দুল্লাহ খান(১৪) কে গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
এক যৌথ প্রতিবাদ বার্তায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল জববার ও সেক্রেটারি জেনারেল আতিকুর রহমান বলেন, পরীক্ষারত এই কিশোরকে গ্রেপ্তার করে দেশে নতুন জঘণ্য ইতিহাস রচনা করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রীসহ সরকারের মন্ত্রী এমপিরা এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে মায়াকান্না করলেও একজন নিরাপরাধ এসএসসি পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষার হল থেকে গ্রেপ্তার করতে দ্বিধা করেনি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এর আগেও সারাদেশে অনেক পরীক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতন করে কারাগারে পাঠিয়ে তাদের শিক্ষা জীবনকে ধ্বংসের মুখোমুখি করেছে অবৈধ সরকার। এগুলো নিকৃষ্ট ও অমানবিক অপকর্ম ছাড়া কিছু নয়। এতে অবৈধ সরকারের বিকৃতি মানষিকতারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, এই কিশোরকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হচ্ছে। এভাবে একটি কিশোরের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারে ঠেলে দেয়ার অধিকার সরকার বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাখেনা। এমনিতেই একের পর এক ছাত্রকে হত্যা, গুম, নির্যাতন ও গ্রেপ্তার করে ছাত্রসমাজের শত্রুতে পরিণত হয়েছে অবৈধ সরকার।
শিবির নেতারা বলেন, আমরা হুশিয়ার করে বলতে চাই, রিফাতের সামান্যতম নির্যাতন বা ক্ষতি করা হলে এর পরিণতি শুভ হবেনা। অবিলম্বে তাকেসহ গ্রেপ্তারকৃত সকল পরীক্ষার্থীদের মুক্তি দিয়ে তাদের নির্বিঘ্নে পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
কেএইচ/জেআই/কেবি





