ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ফেরসাডাঙ্গী গ্রামে টাঙ্গন নদীর ওপর নির্মিত ব্রিজ নির্মানে ব্যাপক ঘাপলা, অনিয়ম ও দূর্নীতি’র অভিযোগ উঠেছে। ৫ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় দেখিয়ে কাজ শুরু করা হয়। তবে বিল তোলা হয় প্রায় ২০ কোটি টাকা। এই দুর্ণীতি তদন্তে মাঠে নেমেছে দুদক ।

এলজিইডি সুত্রে জানা গেছে, বৃহৎ ব্রিজ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ফেরসাডাঙ্গী গ্রামে টাঙ্গন নদীর ওপর ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫ হাজার ৩শ’ মিটার চেইনেজের ২৭৫ দশমিক ২৬ মিটার দৈর্ঘ্য সেতু র্নিমানের কাজ শুরু হয়।

এ কাজ নির্মাণে শহরের গোধুলী বাজারের ঠিকাদার রাম বাবু চুক্তিবদ্ধ হয়। তিনি পিপিআর নীতিমালা লংঘন করেন। মেয়াদ পার হলেও কাজ শেষ করেনি ওই ঠিকাদার। পরে পুন:দরপত্র আহবান করা হয়। ৫ কোটি টাকা থেকে আরও ৫ কোটি টাকা বাড়ানো হয়।

ওই ঠিকাদার তার ছোট ভাই হরিরামের নামে কাজ বাগিয়ে নেয়। মোহাম্মদ পুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সোহাগ বলেন, এভাবে দফায় দফায় টাকা বাড়িয়ে প্রায় ২০ কোটি টাকা তোলা হয়। তবে ব্রিজের ফলকে উলে­খ আছে ১৪ কোটি ১০ লাখ ৫০ হাজার ৬৫০ টাকা। চুড়ান্ত বিল তুলতে চলতি বছর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন। গিলাবাড়ি গ্রামের আব্দুল কাদের অভিযোগ করে বলেন, কাজ শেষ হতে না হতেই ব্রিজের পশ্চিম প্রান্তে ব্লক খুলে পড়ছে। সিমেন্টের প্রলেপও উঠে যাচেছ। 

স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, কোন ঠিকারদার কাজের চুক্তিভঙ্গ করলে ওই ঠিকারদারকে কাল তালিকায় অর্ন্তভুক্ত করার নিয়ম রয়েছে। তবে রাম বাবুকে শাস্তি না দিয়ে এলজিইডি তাকে আরও কাজ দেয়। 

এ সর্ম্পকে ঠিকাদার রাম বাবু বলেন, নির্মান সামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় তিনি কাজ স্যারেন্ডার করে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রায় ১ বছর ধরে এ ব্যাপারে দূর্ণীতি তদন্তে মাঠে নেমেছে দুদক।

সুত্র জানিয়েছে, ঠিকাদার দুদককে সন্তুষ্ট করতে দৌড় শুরু করেছে। এ বিষয়ে সদর উপজেলা প্রকৌশলী নুরুজ্জামান সরদার বলেন, তিনি এসব জানেন না। তবে তিনি জানান, দুইজন কর্মকর্তা দুদকের নোটিশে স্বাক্ষী দিয়েছে।

সোহেল/এমএনজে