আর মাত্র কয়েকদিন পরেই পবিত্র ঈদুল ফিতর। প্রিয়জনদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে এরইমধ্যে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে নগরবাসী। তবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে ঘরমুখো যাত্রীদের সংখ্যা বেড়ে যাবে কয়েক গুণ।

শুধুমাত্র সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকেই কয়েক লক্ষ মানুষ দক্ষিণাঞ্চলের ১৬ জেলায় যাবে। এসব যাত্রীকে নদী পথে পরিবহনে টার্মিনালে প্রস্তুত রয়েছে অসংখ্য লঞ্চ। যেগুলোর অনেকই ফিটনেসবিহীন। যে কোন সময় দুর্ঘটনায় পড়ার আশংকা রয়েছে এসব লঞ্চের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের অপর পারে কেরানীগঞ্জের কালীগঞ্জ, বড়ইতলা, চরকালীগঞ্জ, খেজুরবাগ, চরমীরেরবাগ এলাকার ডকইয়ার্ডগুলো সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে ফিটনেসবিহীন লক্কড়ঝক্কড় লঞ্চগুলোকে সংস্কার করে রং করে ঝকঝকে করে নদীর তীরে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আর এ লঞ্চগুলো বৃহস্পতিবার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে যাত্রীদের নিয়ে যাত্রা শুরু করবে।

যে লঞ্চগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে সেগুলো হলো- ঢাকা থেকে মাদারীপুরগামী দ্বীপরাজ নামের একটি লঞ্চ। যেটি সংস্কার ও রং করে বড়ইতলা ঘাটে বেধে রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করবে এ লঞ্চটি।

এছাড়া তেলঘাটে ঢাকা- গোমা-পাতাবুলিয়া রুটের এমভি প্রিন্স সোহাগ ও ঢাকা-কালাইয়া রুটের এমভি নাজমা খান নামের দুটি ফিটনেস বিহিন লঞ্চ রং করে প্রস্তুত করা হয়েছে। এদিকে তেলঘাট এলাকায় এমভি সুজন-২ (এম-২২১৪) নামের একটি লঞ্চের সংস্কার কাজ শেষ করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে এমভি সুজনের সুপারভাইজার আবুবকর সিদ্দিক জানান, এই লঞ্চের মালিকের নাম রহিম খান। সুজন-২ লঞ্চটি মেরামত শেষে বৃহস্পতিবার যাত্রা শুরু করবে।

ঢাক-ডামুড্যা রুটের প্রিন্স আওলাদ নামে একটি লঞ্চের সংস্কারের কাজ শেষে আওলাদ ডকইয়ার্ড সংলঘ্ন নদীর তীরে বেধে রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রিন্স আওলাদ লঞ্চের সুপারভাইজার আব্দুর রশিদ বলেন, লঞ্চটির কাজ সম্পন্ন করতে দুই মাস লেগেছে। আর করে রং করতে প্রায় ২১ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। টিকিট ভাড়া ধরা হবে ২৯৫ টাকা। আশা করছি ঈদে পুরো টাকা উঠে আসবে।

এদিকে আব্দুর রহমান সাহেবের ডগ ঘেষে ঢাকা-হুলারহাট ও ভান্ডারিয়া রুটের শুভরাজ-২ (এম-৬৭৯০) নামের লঞ্চটির জোড়াতালি দেয়াসহ রঙের কাজ শেষ করা হয়েছে। সেটিও বৃহস্পতিবার যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে লঞ্চটির সুপারভাইজার জয়নাল আবেদিন বলেন, লঞ্চের মালিকের নাম হাজী কামাল উদ্দিন। লঞ্চের তলিতে সামান্য সমস্যা ছিল। এ জন্য সার্ভিসিংয়ের কাজ করিয়েছি। কাজ শেষে বৃহস্পতিবার (২৫ রোজায়) যাত্রা শুরু করবে। আর ঈদের টিকিটের মূল্য ধরা হয়েছে ২৫০ টাকা।

এদিকে বেবী ডকইয়ার্ডে ঢাকা-চাঁদপুর-নীলকমল রুটের বোগদাদিয়া-৯ ও ঢাকা-শরীয়তপুর রুটের রেডসান-২ লঞ্চের সংস্কার কাজ ও রংয়ের কাজ শেষ হয়েছে।

বোগদাদিয়া-৯ লঞ্চের সুপারভাইজার নাগেশ্বর সুজন জানান, লঞ্চের পাশে ও পেছনে কিছু সমস্যা ছিল। সেগুলো মেরামত করাসহ রং করার কাজ শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার যাত্রীদের নিয়ে যাত্রা শুরু করবো।

রেডসান-২ লঞ্চের সুপারভাইজার কাঞ্চন হোসেন বলেন, অনেক দিন ধরে আমাদের লঞ্চটির কাজ করানো হয়নি। তাই ঈদ উপলক্ষে সংস্কার শেষ করা হয়েছে।

ঢাকা-চরফ্যাশন-ভোলা রুটে চলাচল করে ফারহান-২ নামের লঞ্চ। লঞ্চটির মালিক বরিশাল-৩ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা টিপু। লঞ্চটির সুপারভাইজার নাসির উদ্দিন বলেন, দীর্ঘ এক মাস রং করাসহ সংস্কার শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার লঞ্চটি নদীতে ভাসানো হবে।

ঈদের সময় কিভাবে ফিটনেসবিহীন লঞ্চ নামানো হয় জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক লঞ্চ মালিক বলেন, দীর্ঘ ৩০ বছর আগের ফিটনেসবিহীন লঞ্চও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে টাকা দিলেই চলাচলের অনুমতি মিলে যায়। একটি চক্র গোপনে আঁতাত করে কাজটি করে থাকে। যাত্রীদের নিরাপত্তা দিতে হলে উচ্চ পর্যায় থেকে ফিটনেসবিহীন লঞ্চগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

এবিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডাব্লিউটিএ) নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম পরিচালক সাইফুল হক খান বলেন, ফিটনেসবিহীন লঞ্চ চলতে দেওয়া হবে না।

এ বিষয়ে কী করণীয় নির্ধারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ঈদের ৪ দিন আগে ও ৪ দিন পরে সদরঘাটের চারটি গেটে সব সময় সিসি ক্যামেরা দিয়ে মনিটরিং করা হবে। যাতে ফিটনেসবিহীন লঞ্চ চলাচল করতে না পারে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌযাত্রী পরিবহন সংস্থার চেয়ারম্যান মাহবুব উদ্দীন আহম্মেদ বীরবিক্রম বলেন, যারা ফিটনেসবিহীন লঞ্চ নামাবেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঢাকা, এএম, ২৩ জুলাই, টাইমনিউজবিডি.কম, এআর