চট্টগ্রামের আনোয়ারায় একটি সার কারখানায় অ্যামোনিয়াম ফসফেটের বার্নাল (আধার) বিস্ফোরণে আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকায় গ্যাস ছড়িয়ে পড়েছে।
সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর অ্যামোনিয়া গ্যাসের তীব্রতায় অসুস্থ হয়ে পড়া অন্তত ৫০ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম শহরের পতেঙ্গার ১৫ নম্বর ঘাট এলাকার উল্টো দিকে কর্ণফুলী নদীর পূর্ব পাড়ে ডিএপি (ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট) ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
কারখানাটি ড্যাপ-১ কারখানা নামেও পরিচিত বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা। দুর্ঘটনার পর অ্যামোনিয়া গ্যাস নদীর পশ্চিম পাড়ে চট্টগ্রাম নগরের বন্দর ও হালিশহর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। রাতে এ দুর্ঘটনার পর শহরের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।

ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানান, গ্যাসের কারণে পতেঙ্গায় শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বেশ কয়েকজন যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনকে চিকিৎসার জন্য রাত একটার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অ্যামোনিয়াম ফসফেট বাতাসের সঙ্গে মিশে অ্যামোনিয়া গ্যাস তৈরি করে বলে জানান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত ও পরিবেশ রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুমন গাঙ্গুলী। তিনি বলেন, গ্যাসের ঘনমাত্রার ওপর নির্ভর করে এর ক্ষতিকর প্রভাব। তবে এই গ্যাসের প্রভাবে চোখ জ্বালাপোড়া ও শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।
দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রাম শহর থেকে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। আটটি গাড়ি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। সেখানে কৃত্রিম বৃষ্টি ছিটানো হয়।
এর আগে রাত একটায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অসুস্থ ব্যক্তিদের দেখতে যান জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন ও সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকী। এ সময় সিভিল সার্জন সাংবাদিকদের বলেন, গ্যাস ছড়িয়ে পড়লেও আতঙ্কের কিছু নেই। যেসব এলাকায় গ্যাস ছড়িয়েছে, সেখানকার বাসিন্দাদের মাস্ক না পরা এবং আগুন না জ্বালানোর পরামর্শ দেন তিনি।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক বলেন, লোকজনকে আতঙ্কিত না হতে মাইকিং করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা তাঁকে বলেছেন, পরিস্থিতি প্রায় নিয়ন্ত্রণে এসেছে। দুর্ঘটনার কারণ জানতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কেবি





