রাজধানীর বুড়িগঙ্গা নদীতে ৫০ জন যাত্রী নিয়ে ওয়াটার বাস ডুবির ঘটনায় শিশুসহ ৩ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মারা যাওয়া ৩ জনের মধ্যে ২ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের মোহাম্মদ আলিফ (১৪) ও দোহারের মোহাম্মদ ফাহিম (৩০)। অপরজনের পরিচয় জানা যায়নি, তার বয়স আনুমানিক ৫০ বছর।
গতকাল রোববার (১৬ জুলাই) রাত ৮টার দিকে কেরানীগঞ্জের সদরঘাট এলাকায় ওয়াটার বাসটির সঙ্গে বালুবোঝাই একটি বাল্কহেডের ধাক্কা লেগে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নৌ-পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও বিআইডব্লিউটিএর ডুবরিদের সমন্বয়ে উদ্ধার অভিযানে চলছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২০ থেকে ২৫ জন নিখোঁজ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬ জনকে জীবিত ও শিশুসহ ৩ জন মৃত। তাদের উদ্ধার করে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিডফোর্ড) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে নৌ-পুলিশ।
নৌ-পুলিশের সদরঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান মারুফ বলেন, বাল্কহেডটি পুলিশি হেফাজতে আছে। এতে ৫০ জনের মতো যাত্রী ছিলেন। ২৫ জনের মতো সাঁতরে তীরে উঠতে পেরেছেন।
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বি আই ডব্লিউটিএ এর চেয়ারম্যান কমোডর আরিফ আহমেদ। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ড, ডুবরিরা একসঙ্গে কাজ করছে।
সদরঘাট ফায়ার স্টেশনের অফিসার আব্দুল মালেক বলেন, জীবিত উদ্ধার ব্যক্তিদের মধ্যে চার পুরুষ, তিন নারী ও একটি শিশু রয়েছে। পুরুষদের মধ্যে দুজন অচেতন ছিলেন। তারা জীবিত কি মৃত হাসপাতাল বলতে পারবে।
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রশিদ উন নবী বলেন, এখন পর্যন্ত ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর শুরু করেছে পুলিশ।
অপরদিকে ওয়াটার বাসডুবির ঘটনায় স্বজন হারানোর শঙ্কায় রাতে বুড়িগঙ্গার তীরে ছুটে এসেছেন অনেকে। তারা ঘাটে অবস্থান করছেন। সদরঘাট ও কেরানীগঞ্জে নদীর পাড়ে মানুষ ভিড় করছে।
এবিএস





