জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের দেওয়া ‘কমিশনের অভ্যন্তরেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই’ এমন বক্তব্যের জবাব দিলেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব মো. আলমগীর। তিনি বলেছেন, পাঁচজন কমিশনারকে নিয়ে কমিশন। কোনো কোনো বিষয়ে তারা দ্বিমত হন, আবার আলোচনার মাধ্যমে একমতও হন। সে জন্য সুন্দর নির্বাচন হচ্ছে।

রোববার বিকালে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

মাহবুব তালুকদারের বক্তব্য প্রসঙ্গে সচিব বলেন, নির্বাচনে কী শর্ত পূরণ হলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হয়, কী শর্ত পূরণ না হলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হয় না তা জানা যায়। কিন্তু কমিশনের লেভেল ফিল্ড বলতে কী বুঝাতে চেয়েছেন তা জানি না। আমার এ জ্ঞান নেই।

অনেক জায়গায় অনেক নির্বাচন হয়েছে। কখনও কী কমিশনের গণ্ডগোলের কারণে, সিদ্ধান্তহীনতার কারণে নির্বাচন হয়নি বা পিছিয়ে গেছে। ইসির কাজ-কর্ম সব ঠিকমতো চলছে।

মাহবুব তালুকদারকে দুই রিটার্নিং কর্মকর্তার তথ্য না দেয়া প্রসঙ্গে ইসি সচিব বলেন, একজন নির্বাচন কমিশনার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে তথ্য চাইলে তা দিতে বাধ্য। তা হবে কমিশনের মাধ্যমে। তারা সরাসরি একজন কমিশনারের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নয়। সবকিছু কমিশনের মাধ্যমে হবে। কমিশন সভায় কি আলোচনা হবে তা কমিশন ঠিক করে। কমিশন সচিবালয় তা নথিভুক্ত করে এবং তা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে পাঠায়।

সিইসি তা অনুমোদন দিলেই ওই বিষয়ে আলোচনা হয়। এ বিষয়ে কমিশন সচিব হিসেবে আমার বলার কিছু নেই।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীদের আচরণ বিধি লংঘনের ঘটনায় ব্যবস্থা নিতে না পারার পর এখন তা সংশোধনের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর।

আচরণ বিধি প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে গণতান্ত্রিক পরিবেশে বিবেচনায় এগুলোর হয়তো কিছু রিভিউ করার প্রয়োজন হতে পারে। আমিও তা মনে করি। তবে যদি তা কমিশন মনে করে।

আচরণ বিধি সংশোধনের আরও যৌক্তিকতা তুলে ধরে সচিব বলেন, শুধু নির্বাচনের সময় কেন, অন্যান্য সময়ে কোনো দিবস উপলক্ষে শোভাযাত্রা বের হয় তখন পুলিশ রাস্তা বন্ধ করে দেয় না? আমাদের দেশে রাস্তা ন্যারো, মানুষ বেশি। ঘটনাগুলো ইচ্ছা করে ঘটে তা নয়, অনেকটা বাস্তবতা। বাস্তবতার দৃষ্টিতে বিবেচনা করলে তা কঠিন।

নির্বাচনী সহিংসতার বিষয়ে তিনি বলেন, ইশরাকের ওপর হামলার ঘটনা এখনও আমি জানি না। এ ঘটনা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে গেলে তা খতিয়ে দেখবে।

আর রিপোর্ট কমিশনের কাছে আসলে তখন ব্যবস্থা নেবে। কেউ ফৌজদারি অপরাধ করলে সেভাবে বিচার হবে। তবে কমিশন কাউকে জেল-ফাসি দিতে পারে না। প্রার্থিতা বাতিল করতে পারে।

এএস