বরগুনায় আলোচিত রিফাত হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা ছিল নয়ন বন্ড। হত্যাকাণ্ডের ধারণকৃত ভিডিওতে দেখা য়ায় নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে রিফাত শরীফকে। তাদের আশেপাশে দাঁড়িয়ে সেলটার দেয় '০০৭' গ্রুপের অন্যান্য সদস্যরা।

সমাজের অলিগলিতে এখন গড়ে উঠেছে এসব গ্যাং গ্রুপ। গ্রুপের আবার 'সুন্দর' নামও থাকে। এসব কিশোর গ্যাং গ্রুপ এখন ছড়িয়ে পড়েছে দেশব্যাপী। যাদের অপরাধের মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

তাইতো বরগুনায় রিফাত শরীফের মতো খুন হতে হলো গাজীপুরের টঙ্গীর বিসিক ফিউচার ম্যাপ স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র শুভ আহমেদকে (১৪)। ঠিক নয়ন বন্ড স্টাইলে কুপিয়ে হত্যা করা হয় তাকে।

শুভকে হত্যার পিছনে অংশ নেয় ৪ কিশোর। যাদের গ্রুপের নাম কিশোর গ্যাং 'পাপ্পু গ্রুপ'।

গত ৭ জুলাই টঙ্গীতে কিশোর গ্যাং পাপ্পু গ্রুপের হাতে শুভ খুন হয়। বৃহস্পতিবার বিকালে টঙ্গীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ চার কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্যকে গ্রেফতার করেছেন র‌্যাব ১-এর সদস্যরা।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- প্রধান আসামি মৃদুল হাসান পাপ্পু ওরফে পাপ্পু খান (১৭), সাব্বির আহম্মেদ (১৬), রাব্বু হোসেন (১৮) ও নূর মোহাম্মদ রনি (১৬)।

শুক্রবার দুপুরে গাজীপুরের পোড়াবাড়ি র‌্যাব ১-এর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

সাংবাদিকদের সামনে নির্মম এ হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল সারওয়ার-বিন-কাসেম। এ সময় র‌্যাব কর্মকর্তাদের চোখও ভিজে ওঠে। র‌্যাব কার্যালয়ে উপস্থিত শুভ আহমেদের পিতা মাতার বুকফাটা আহাজারিতে গুমোট হয়ে আসে বাতাস।

র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল সারোয়ার বিন কাসেম সাংবাদিকদের বলেন, তুচ্ছ কারণে সুপরিকল্পিতভাবে শুভকে হত্যা করা হয়। খুনের নেতৃত্ব দেয় তারই সহপাঠী নবম শ্রেণির আরেক ছাত্র মৃদুল হাসান ওরফে পাপ্পু।

তিনি বলেন, ৬ মাস আগে নিহত শুভ ও পাপ্পুসহ ফিউচার ম্যাপ স্কুলের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা সফরে ঢাকায় যায়। বাসে করে ফেরার পথে পাপ্পু তার এক বান্ধবীর সিটে বসলে বন্ধুবান্ধবরা হাসি তামাশা করে। এ সময় শুভ মোবাইল ফোনে ছবি তোলে। এতে ক্ষিপ্ত হয় পাপ্পু।

তিনি আরও বলেন, বাসের মধ্যেই তাদের দু’জনের হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে অপমানের প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে পাপ্পু। সে তার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য সাব্বির, রাব্বু ও রনিকে নিয়ে শুভকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করে। স্কুলের টিফিন পিরিয়ডে খুনের পরিকল্পনা করে তারা। এজন্য একাধিক ধারালো ছুরি ও চাকু সংগ্রহ করা হয়।

কর্নেল সারোয়ার বিন কাসেম বলেন, ঘটনার দিন শুভ সেলুন থেকে চুল কেটে বের হওয়ার সময় তাকে ডেকে নেয় পাপ্পু গ্রুপের সদস্যরা। এরপর নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে সুইস গিয়ার নামের ধারালো ছোরা দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়।

তিনি বলেন, বুকে পিঠে ছুরির অসংখ্য আঘাতে গুরুতর আহত শুভ দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু তাকে পালিয়ে বাঁচতে দেয়া হয়নি। দৌড়ে জাপটে ধরে আরেক দফা তাকে কোপানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে শুভ। চিরদিনের জন্য জীবন প্রদীপ নিভে যায় তার।

র‌্যাব জানায়, চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের পর টঙ্গী থানায় মামলা হলে রহস্য উদঘাটনে ছায়া তদন্ত শুরু করে র‌্যাব। একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার রাতে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত চার কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়।

এরা হল- গ্যাং লিডার মৃদুল হাসান ওরফে পাপ্পু ওরফে পাপ্পু খান, সাব্বির আহমেদ, রাব্বু হোসেন ওরফে রিয়াদ ও নূর মোহাম্মদ। এদের কেউই স্কুলের গণ্ডি পার হয়নি। সবাই নবম শ্রেণির ছাত্র। শুভ খুনের সঙ্গে জড়িত আরও বেশ কয়েকজনের নাম পেয়েছে র‌্যাব। এদের মধ্যে শাহদাত ওরফে কালা ওরফে রগকাটা কালা নামের এক যুবককে খোঁজা হচ্ছে।

র‌্যাব জানায়, টঙ্গী ও পার্শ্ববর্তী উত্তরা এলাকায় বেশ কয়েকটি কিশোর গ্যাং সক্রিয়। পশ্চিমা কালচারের অনুকরণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় স্কুল কলেজ পড়ুয়া উঠতি বয়সীরা মূলত ফেসবুকের মাধ্যমে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে।

জেড