দেশের দলিত ও হরিজন জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার সংরক্ষণে ‘বৈষম্য বিলোপ আইন’ এর খসড়া সংসদে উপস্থাপন করে দ্রুত পাস করাসহ বেশ কয়েকটি দাবি জানিয়েছে দুইটি সংগঠন।
সোমবার (২১ মার্চ) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক বর্ণ বৈষম্য বিলোপ দিবস-২০১৫ উপলক্ষে ‘বৈষম্য নিরসনে জাতীয় সংলাপ’ এ বাংলাদেশ দলিত পরিষদ ও বাংলাদেশ হরিজন পরিষদের পক্ষ থেকে এসব দাবি জানানো হয়।
হরিজন ঐক্যপরিষদের মহাসচিব নির্মল চন্দ্র দাস অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
এতে তিনি বলেন, দেশে ৫৫ লাখ দলিত জনগোষ্ঠী রয়েছে। এছাড়া হরিজন সম্প্রদায়ের লোকের সংখ্যা ১৫ লাখ। এসব জনগোষ্ঠী শিক্ষা, বাসস্থান, স্বাস্থ্য, পেশা-মজুরি, ন্যায় বিচারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বঞ্চিত ও বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে।
এ সময় তিনি বৈষম্য বিলোপ আইন পাস ছাড়াও চাকরিতে দলিত, হরিজন জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা প্রবর্তন, দেশের উন্নয়নের ধারায় তাদের সম্পৃক্ত করা, জাতীয় সংসদসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে এসব সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানান।
এছাড়া পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, স্বায়ত্বশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হরিজনদের চাকরি স্থায়ীকরণ, গৃহায়ন কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্তকরণ ও তাদের আবাসন মেরামত, খাসজমি বন্দোবস্ত করার দাবি জানান হরিজন ঐক্যপরিষদের মহাসচিব।
অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের হুইপ সাহাব উদ্দিন এমপি বলেন, শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিভিন্ন দেশে বর্ণ বৈষম্য বিরাজমান। সব বৈষম্য দূর করে দেশকে মধ্য আয়ের দেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু এর বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র চলছে।
হরিজন ও দলিত সম্প্রদায়ের বিভিন্ন দাবির বিষয়ে একমত পোষণ করে তিনি বলেন, যুগ যুগ ধরে চলতে থাকা এসব বৈষম্য হঠাৎ করে বন্ধ করা যাবে না। বৈষম্য দূর করে আমরা ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছি। শিক্ষা, মানবাধিকার ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে এসব সমস্যা দূর করা সম্ভব।
‘বর্ণ বৈষম্য বিলোপ আইন’ এর খসড়া নিয়ে কাজ চলছে, এটি সংসদে পাসের জন্য তার পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে বলে জানান হুইপ।
এ সময় সংসদ সদস্য কাজী রোজী বলেন, নৃ-গোষ্ঠীকে অবহেলা করে আমরা এগিয়ে যেতে পারি না, সেটি প্রধানমন্ত্রীর কথা। দেশের উন্নয়নে নৃ-গোষ্ঠীর জনগণকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।
নবীন সংসদ সদস্য আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী বলেন, আজকের দিবসের প্রতিপাদ্য থেকে বোঝা যায়, বিশ্বব্যাপী বৈষম্য চলছে। আমরা যেন বর্ণ বৈষম্যহীন একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে পারি। সেই জন্য সবাইকে যার যার জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, কারো এলাকায় কোনো ধরনের বৈষম্য হলে, সেই এলাকার জনপ্রতিনিধি দায় এড়াতে পারেন না।
হরিজন ঐক্য পরিষদের সভাপতি কৃষ্ণলাল দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- ইয়াসিন আলী এমপি, হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া এমপি, সাগুফতা ইয়াসমিন এমপি, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম প্রমুখ।
অনুষ্ঠান আয়োজনে সহযোগিতা করে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন। এতে বাংলাদেশ দলিত পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অশোক দাস স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
ওএফ





