ক্ষমতাসীন দলের মতাদর্শীদের প্রাধান্য, স্বজনপ্রীতি, আইনবহির্ভূত সম্মানী প্রাপ্তিসহ নানা অনিয়মের কারণে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড—এনসিটিবিতে দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ হয়েছে বলে উঠে এসেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক গবেষণায়।

আজ সোমবার সকালে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে এনসিটিবির পাণ্ডুলিপি প্রণয়ন ও প্রকাশনা ব্যবস্থাপনায় সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায় শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করে এসব জানানো হয়।

এ সময় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘যে সরকারই যখন ক্ষমতায় থাকে, তাদের খুশিমতো কিছু কিছু ক্ষেত্রে পরিবর্তন নিয়ে আসে রাজনৈতিক বিবেচনায়। আবার যখন তারা ক্ষমতার বাইরে থাকে, তখন আবার নতুন সরকার, পরবর্তী সরকার যারা আসে, তারা সেগুলোকে পরিবর্তন করে আবার নিজের মতো করে ফেলে।

যার ফলে আমাদের যে পরবর্তী প্রজন্ম, তারা কিন্তু দ্বিধাগ্রস্ত হচ্ছে। আমাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গাটা হচ্ছে যে মেধাভিত্তিক সমাজ, সুশিক্ষিত সমাজ গঠন করার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা প্রতিষ্ঠান, সেই প্রতিষ্ঠানে যদি এ ধরনের প্রবণতা থাকে, তাহলে এটি জাতির ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত বলে আমি মনে করি।’

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি বিশেষ সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর চাপে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের পাঁচটি বইয়ের ১৬টি লেখা বাদ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মাদ্রাসার ৩৫টি পাঠ্যবই পরিবর্তন ও মাধ্যমিকের ১১টি বই পরিমার্জন করা হয়।

এ ছাড়া দরপত্র, কাগজ ক্রয়, প্রকাশনা প্রক্রিয়ার এনসিটিবির বিভিন্ন অনিয়মও তুলে ধরা হয়।এসব সমস্যা মোকাবিলায় এনসিটিবিকে কমিশনে রূপান্তর করার প্রস্তাব করে টিআইবি।

এমএ