যশোর জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের ঢাকায় তলব করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে দলীয় কোন্দল মেটাতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের সঙ্গে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা কথা বলবেন।
আগামী ২৪ এপ্রিল এই বৈঠক হবে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে। দলের সাধারণ সম্পাদক নিযুক্ত হওয়ার পর ওবায়দুল কাদের দেশব্যাপী সাংগঠনিক সফর করেছেন। কিন্তু দলের মধ্যকার স্থানীয় কোন্দল মেটাতে পারেননি। এই অবস্থায় গত ১৯ এপ্রিল বুধবার দলটির সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় স্থানীয় নেতাদের ঢাকায় ডাকার সিদ্ধান্ত হয়।
সূচি অনুযায়ী ২৪ এপ্রিল যশোর ছাড়াও ২৫ এপ্রিল সাতক্ষীরা ও ২৭ এপ্রিল নীলফামারীর তৃণমূলের নেতাদের ডাকা হয়েছে। আর প্রথম দিনের বৈঠকে ডাক পড়েছে চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ার নেতাদের। আজ বিকেল ৫টায় ধানমণ্ডিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলার আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও কেন্দ্রীয় নেতারা কথা বলবেন। সেখানে ওবায়দুল কাদের তৃণমূলের নেতাদের দিকনির্দেশনা দেবেন।
যশোরে আওয়ামী লীগের বিভক্তি বেশ পুরনো। শহরভিত্তিক রাজনীতিতে জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার একটি অংশের নেতৃত্ব দেন। এই অংশের প্রতি দুর্বল দলের নবনিযুক্ত সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট পীযূষকান্তি ভট্টাচার্য। দলে এই অংশের প্রতিপক্ষ জেলা সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন ও সদর উপজেলা সভাপতি মোহিতকুমার নাথের নেতৃত্বাধীন অংশ। এই ধারার ওপর আশীর্বাদ রয়েছে সদর আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের।
প্রায়ই দুই গ্রুপ শো-ডাউন করে। গত কিছুদিন যাবৎ দলের দুই অংশ জাতীয় ও দলীয় কর্মসূচি আলাদাভাবে পালন করে আসছে। সেখানে এক অংশ অন্য অংশের কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনামূলক বক্তব্যও দিচ্ছেন।
এছাড়া জেলাব্যাপী আওয়ামী লীগের বিভক্তিও সর্বজনবিদিত। তৃণমূলে সংসদ সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যান বা পৌরসভার মেয়রদের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। তারা স্থানীয়ভাবে আলাদা আলাদা গ্রুপের নেতৃত্ব দেন। ফলে উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু করে গ্রাম, পাড়া-মহল্লা পর্যন্ত গড়ে উঠেছে নির্দিষ্ট নেতার অনুসারী গ্রুপ।
শার্শা, বাঘারপাড়া, অভয়নগর, চৌগাছা, ঝিকরগাছায় এই দ্বন্দ্ব দৃষ্টিকটুভাবে লক্ষ্যণীয়।
তারেক/জারিফ





