হকার উচ্ছেদ বন্ধ ও পূনর্বাসনের জন্য জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন করার দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেন বাংলাদেশ হকার্স সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ১৮টি হকার সংগঠনের নেতা কর্মিরা।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১ হতে দুপুর ২ টা প্রর্যন্ত জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বিভিন্ন এলাকার হকার নেতারা বক্ত্যব রাখেন।
হকার নেতারা তাদের বক্ত্যবে বলেন, আমরা এখন খুব মানবতার জীবন-যাপন করছি। সঠিক মতন আমরা ঘরে বাজার থেকে শুরু করে ছেলে-মেয়েদের বই খাতা কিনে দিতে পারছিনা। আমরা দিন আনি দিন খাই, আমরা এই আন্দলন পেটের দায়ে করছি। আমাদের আর কোন উপায় নেই।
মাননীয় মেয়র সাহেব আমাদেরকে মিথ্যা আশ্বস্ত দিয়েছেন। আমাদের পূর্নবাসন দিতে চেয়েও দেননি, আমাদেরকে বিদেশ নিতে চেয়েও নেওয়া হয় নায়। আমাদের দাবি মেনে নিতে চেয়েও নেওয়া হয়নি। এই সরকার এবং মেয়র আমাদের সঙ্গে বেইমানি করছেন। আমাদেরকে সবাই ব্যবহার করে আমরা হকাররা আর ব্যবহার হতে চাই না। আমরা এখন শক্তিশালী আন্দলনের মাধ্যমে আমাদের দাবি আদায় করতে চাই।
আমরা এই সরকারের আমলে হরতালের সময় নিজের জীবন বাজীরেখে, আমরা দোকান খুলছি এবং বেচা-কেনাও করছি।
হকার নেতারা সরকারকে উল্লেখ করে বলেন, গুলিস্থান হতে অনেক সরকার ক্ষমতায় আসে আবার, এই গুলিস্থান থেকে অনেক সরকার পতন হয়। হকার নেতারা বলেন মাননীয় প্রধান মন্ত্রী আমরা চুরি করে খায় না, আমরা কঠোর পরিশ্রম করে খাই। আমরা বলেছি সরকারকে ভ্যাট দিবো, আমাদের বিতাড়িত করবেন না। আমরা কোথায় যাব। কেন আমাদের সঙ্গে রোহিঙ্গার মতন ব্যবহার করছেন। আমরা কি এই দেশের নাগরিক না।
হকার নেতারা আরও বলেন, আমাদের কে নাড়িয়েন না, আমরা নড়তে চাই না। আমরা নড়লে খোদার কসম বাংলাদেশ অচল করে দিব।
হকার নেতারা মেয়র কে উল্লেখ করে বলেন, মাননীয় মেয়র সাহেব কাদের দাপটে আপনি মেয়র হয়েছেন। সব কিছু কি ভুলে গিয়েছেন। আপনি কি ভেবেছেন? যদি আর কোন হকারদের উপর আপনি গুন্ডা ভাড়া করে তাদের কে উচ্ছেদ করেন বা নিযার্তন করেন তা হলে আপনার গায়ের চামড়া থাকবেনা ও মেয়রত্ব থাকবেনা।
সমাবেশে হকার নেতাকর্মীরা সরকার ও মেয়রকে উল্লেখ করে বলেন, অনতিবিলম্বে আমাদের বিরুদ্বে সকল মিথ্যা মামলা, প্রাধানমন্ত্রীর নিদের্শনা, হাইকোটের রুলস বাস্তবায়ন, ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারকার্যের মাধ্যমে হকার উচ্ছেদ বন্ধ এবং পূনর্বাসনের জন্য জাতীয় নীতিমালা প্রনয়ণ করুন।
আর যদি এই দাবি না মেনে নেওয়া হয় তাহলে আগামী দিনে কঠিন আন্দোলন করা হবে বলে হকার নেতারা হুশিয়ারী দেন।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোপ মিছিল প্রেস ক্লাব হতে গুলিস্থানের দিকে গেলে পুলিশের বাধায় মিছিলটি ছত্র ভঙ্গ হয়ে যায়।
খাজা/এমবি





