দীর্ঘ দিন ধরে সংস্কার ও মেরামত না করার কারণে দেশের বিভিন্ন মহাসড়ক ও সড়কের গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলো আজ চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ও নাজুক হয়ে পড়েছে। সরু, ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিরাপদ এসব সেতু দিয়ে ভারীসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে।
জাইকার অর্থায়নে এখন কিছু সেতু জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর আগেও বেশ কিছু সেতু জাইকার অর্থায়নে নতুন করে নির্মাণ করা হয়। সেতু সংস্কারের জন্য পরামর্শক খাতেই ব্যয় হচ্ছে ১৮৫ কোটি ৮১ লাখ টাকা। সেতু বিভাগ বলছে, টাকার অভাবে এসব সেতু সংস্কার ও উন্নয়ন করা যাচ্ছে না। এসব সেত দুর্ঘটনার জন্য অনেকাংশে দায়ী।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) সড়ক ও সেতু খাতে বড় বরাদ্দ রাখা হলেও তারা বলছে, অর্থাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সেতুগুলোর উন্নয়ন ও প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না। দেশের পশ্চিমাংশে ১০৬টি সরু, ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিরাপদ সেতু রয়েছে। রংপুরে ১৯টি, রাজশাহীতে ১৬টি, গোপালগঞ্জে সাতটি, খুলনায় ৯টি, বরিশালে ৯টি ও নরসিংদী অর্থনৈতিক জোনে একটি সেতুসহ মোট ৬১টি সেতু এখন জাইকার অর্থায়নে সংস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।
সেতুগুলো অনেক ক্ষয় হয়ে দুর্বল হয়ে গেছে। আবার অনেক সেতুর সাইড রেলিংও নেই। ফলে এসব সেতুতে যখন যানবাহন ওঠে তখন যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইম্প্রুভমেন্ট প্রকল্পের আওতায় এই অঞ্চলের সেতুগুলো নির্মিত হবে। এর জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে দুই হাজার ৯১১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। যার মধ্যে জাইকার জন্য এক হাজার ৯০৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা। বাকিটা বাংলাদেশ সরকারকে প্রদান করতে হবে। প্রকল্পটি বৈদেশিক সুবিধা পাওয়ার জন্য চলতি অর্থবছরের এডিপিতে সবুজ পাতায় রাখা হয়েছে।
প্রকল্পে ঢাকা বিভাগের জন্য ৪৩৯ কোটি ২৮ লাখ ১৮ হাজার টাকা, রাজশাহী বিভাগের জন্য ৩৩৯ কোটি ৮০ লাখ ৫২ হাজার টাকা, রংপুরের জন্য ৩৫৩ কোটি ৭৬ লাখ ৬২ হাজার টাকা, খুলনার জন্য ১০৩ কোটি ২৪ লাখ ৬৮ হাজার টাকা এবং বরিশাল বিভাগের জন্য ১০৬ কোটি ১০ লাখ ৩৯ হাজার টাকা। এই প্রকল্পে চার হাজার ৭১৫ মিটার ব্রিজ নির্মাণ, ৩৩.২১ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ, সাড়ে সাত লাখ ঘনমিটার মাটির কাজ রয়েছে। প্রকল্পে এনজিও পরামর্শক খাতে ব্যয় তিন কোটি টাকা এবং ডিজাইন ও তদারকির জন্য পরামর্শক খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮১ কোটি ৯৪ লাখ ৮১ হাজার টাকা।
অন্য দিকে বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলীয় চারটি সড়ক জোনের (ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও সিলেট) ১২টি জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে মোট ২৪৯টি সঙ্কীর্ণ, ক্ষতিগ্রস্ত, ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিরাপদ সেতু রয়েছে বলে জাপান সরকারের অর্থায়নে করা এক সমীক্ষায় বেরিয়ে এসেছে। ঢাকা, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, সিলেট, সুনামগঞ্জ, চট্টগ্রাম, ব্রাক্ষণবাড়িয়া, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, কক্সবাজার ও খাগড়াছড়ি এলাকায় বতর্মানে ১১৮টি ঝুঁকিপূর্ণ সেতু রয়েছে।
ট্রাফিক জ্যাম ও দুর্ঘটনার জন্য এসব সেতুই অনেকাংশেই দায়ী বলে প্রতীয়মান হয়েছে। সমীক্ষাভুক্ত ২৪৯টি সঙ্কীর্ণ সেতুর মধ্যে থেকে ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও সিলেট জোনের মোট ৬৮টি সেতু জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জাইকা) অর্থায়নে উন্নয়নের উদ্যোগ নেয়া হয় গত ২০০৯ সালে। এসব সেতুর দৈর্ঘ্য ৩০ মিটার ও তার বেশি। জাইকার অর্থায়নসহ মোট এক হাজার ১৮৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এগুলোর সংস্কার করা হচ্ছে ২০০৯ সাল থেকে।
আইএমইডি সূত্র বলছে, জাতীয় ও জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর কাজ কিছুটা আগেই করে রাখলে প্রকল্পগুলো যথাসময়ে শেষ করা সম্ভব হয়। কিন্তু সড়ক খাতের বেশির ভাগ প্রকল্পই যথাসময়ে শেষ করা হয় না। যার কারণে ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। নির্ধারিত ব্যয়ের মধ্যে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন রাখা যাচ্ছে না। বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোকে আরো বেশি যত্নবান করা সম্ভব হলে এবং সঠিকভাবে তদারকি করা গেলে ব্যয় নির্ধারিত অর্থের মধ্যে রাখা সম্ভব হবে। তবে এসব প্রকল্পে পরামর্শক খাতের নামে বিরাট ব্যয় বরাদ্দ রেখে তা নিজেদের পকেটস্থ করা হচ্ছে। সূত্র নয়া দিগন্ত
এএইচ





