টাঙ্গাইলের করটিয়ার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রায় ৪০০ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক কাটাখালী খালটি বেদখল হয়ে যাচ্ছে। এক শ্রেণির প্রভাবশালী ভূমিদস্যু খালের দুই পাড়ে বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করে খালটি দখল করে নিয়েছে। ভূমিদস্যুদের কবলে পড়ে এক সময়ের সৌন্দর্যমণ্ডিত খালটি শ্রী হারিয়ে এখন সরু ড্রেনে পরিণত হয়েছে।
অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ভূমি অফিস, প্রশাসনসহ এলাকাবাসী উদ্যোগ নেয়। নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা খালের ওপর নির্মাণাধীন অবৈধ একটি মার্কেট ভেঙে দেয়। তখন কিছু অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদও করে। কিন্তু দখলদাররা প্রভাবশালী হওয়ায় উদ্যোগ বেশিদূর এগুতে পারেনি।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া লৌহজং নদীর একটি শাখা হলো কাটাখালী খাল। এ খালটি করটিয়া শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নথখোলা নদীতে গিয়ে মিলেছে। ১৯০৫ থেকে ১৯১২ সাল পর্যন্ত সিএস রেকর্ড অনুযায়ী কাটাখালী খালের প্রশস্ততা ছিল প্রায় ১০০ ফুট। বর্তমানে এর প্রশস্ত আছে মাত্র ২০ ফুট। দৈর্ঘ্য ২৩ কিলোমিটার। অবৈধ দখলদাররা খালের সব জায়গায় দখল করে নিয়েছে।
বিশাল এ খালের অধিকাংশে দখলদাররা গড়ে তুলেছে মার্কেট, বাসাবাড়ি, ছোট-বড় দোকান। পাইপ লাইন দিয়ে ময়লা পানি, পয়ঃনিষ্কাশনের বর্জ্য খালে এসে পড়ছে। এতে করে খালের পানি দুর্গন্ধ হয়ে গেছে। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পরিবেশ।
করটিয়া বাজার কমিটির সদস্য নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক ক্ষমতাসীন দলের একজন নেতা বলেন, এলাকার চিহ্নিত ভূমিদস্যুরা ঐতিহ্যবাহী কাটাখালী খালটি দখল করে ফেলেছে। খালটি এখন সরু ড্রেনে পরিণত হয়েছে। বর্তমান সরকার নদী ও খাল পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নিয়েছে। তারা আশা করছেন কাটাখালী খালটি ভূমিদস্যুদের হাত থেকে উদ্ধার হবে।
ওই এলাকার রফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি বলেন, এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সরকারী অফিস থেকে লিজ নিয়ে জাল দলিল তৈরি করে ওই জায়গা অন্যদের কাছে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এতে করে সাধারণ মানুষ না বুঝে জমি ক্রয় করে প্রতারিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসলাম উদ্দিন মোল্লা জানান, করটিয়ার খালটি উদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মাহবুব হোসেন বলেন, যে কোনো উপায়ে খালটি ভূমিদস্যূদের হাত থেকে উদ্ধার এবং রক্ষা করা হবে। নদী-নালা, খাল, বিল রক্ষার বিষয়ে হাইকোর্টের নিদের্শনা রয়েছে। খুব দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।
করটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোর্শেদ আলী খান পন্নীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল কাটাখালী খাল অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে উদ্ধার করা। তার নেতৃত্বে এবার খাল উদ্ধার হবে বলে জনগণ মনে করছেন।
জেআই





