খবরটা আগেই জানা ছিল। তাই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভিড় দেখা যায়। ঠিক সময় যখন বেলা ১১টা, তখনই সেখানে আনা হয় প্রিয় গায়ক, বরেণ্য সংগীতশিল্পী সুবীর নন্দীর মরদেহ।

খ্যাতিমান সংগীতশিল্পী সুবীর নন্দীর মরদেহ এখন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য বুধবার সেখানে নেয়া হয়।

এর আগে রিজেন্ট এয়ারওয়েজের একটি বিমানে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তার মরদেহ সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকায় এসে পৌঁছায়।

বিমানবন্দর থেকে মরদেহ নেয়া হয় ২৫সি গ্রিনরোডের গ্রিনভিউ অ্যাপার্টমেন্টে। সেখান থেকে নেয়া হয় রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে।

জানা যায়, দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সুবীর নন্দীর মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে। শহীদ মিনারে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা জানানো শেষে নেয়া হবে এফডিসিতে।

সেখান থেকে নেয়া হবে রামকৃষ্ণ মিশনে। পরে দাহ করার জন্য নেয়া হবে সবুজবাগের বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির ও শ্মশানে।

এর আগে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও একবার হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল তাঁর। ১৮ দিন ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ৩০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয় সুবীর নন্দীকে।

৪০ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আড়াই হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন সুবীর নন্দী। তিনি প্রথম প্লেব্যাক করেন ১৯৭৬ সালে আবদুস সামাদ পরিচালিত ‘সূর্যগ্রহণ’ চলচ্চিত্রে। প্লেব্যাক করে পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন তিনি।

তার গাওয়া উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে ‘দিন যায় কথা থাকে’, আমার এ দুটি চোখ পাথর তো নয়’, ‘পৃথিবীতে প্রেম বলে কিছু নেই’, ‘আশা ছিল মনে মনে’, ‘হাজার মনের কাছে প্রশ্ন রেখে’, ‘বন্ধু তোর বারাত নিয়া’, ‘বন্ধু হতে চেয়ে তোমার’, ‘কতো যে তোমাকে বেসেছি ভালো’, ‘পাহাড়ের কান্না দেখে’, ‘আমি বৃষ্টির কাছ থেকে কাঁদতে শিখেছি’, ‘কেন ভালোবাসা হারিয়ে যায়’, একটা ছিল সোনার কন্যা’, ‘ও আমার উড়াল পঙ্খীরে’সহ অসংখ্য গান। তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘সুবীর নন্দীর গান’ বাজারে আসে ১৯৮১ সালে।

‘প্রেম বলে কিছু নেই’, ‘ভালোবাসা কখনো মরে না’, ‘সুরের ভুবনে’, ‘গানের সুরে আমায় পাবে’ ছাড়াও ‘প্রণামাঞ্জলী’ নামে একটি ভক্তিমূলক গানের অ্যালবাম রয়েছে এ শিল্পীর।

এএস