আজ থেকে শুরু হওয়া ভারতের পার্লামেন্ট অধিবেশনে স্থলসীমান্ত বিল পাশের দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ভারতীয় হাইকমিশনারের কাছে স্মারকলিপি পেশে করেছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের ১১১টি ছিটমহলের মানুষ।

সোমবার দুপুরে কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার দাশিয়ার ছড়া ছিটমহল থেকে ছিটমহলবাসী সাইকেল র‍্যালি করে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এ স্মারকলিপি প্রদান করে। এ সময় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটি বাংলাদেশ অংশের সভাপতি ময়নুল হক, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আব্রাহাম লিংকন প্রমুখ।

জেলা প্রশাসক এ বি এস আজাদ এ সময় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন। সমন্বয় কমিটির সূত্র জানায়, লালমনিরহাট, পঞ্চগড় এবং  নীলফামারী জেলায় অনুরূপ কর্মসূচি পালিত হয়। বাংলাদেশের ভেতরে ভারতের ১১১টি ও ভারতের ভেতরে বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলের মানুষ দ্রুত ছিটমহল বিনিময় ও মুজিব-ইন্দিরা চুক্তির বাস্তবায়নের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে সমাবেশ, মশাল মিছিল, গণঅনশন, ধর্মঘট ও নিষ্প্রদীপ রাত যাপনসহ নানা কর্মসূচি পালন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কয়েক দফা ভারতের পার্লামেন্টে সংবিধান সংশোধনকল্পে বিল উত্থাপনের কথা শোনা গিয়েছিল। কিন্তু বিরোধীদলের সমর্থন না পাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি।

ভারতের তৎকালীন সরকারি দল কংগ্রেস রাজ্যসভার অধিবেশনে স্থলসীমান্ত  চুক্তি বিলটি কয়েক দফায় উত্থাপনের চেষ্টা করে। তবে বিরোধীদল বিজেপি, আসাম গণপরিষদ ও পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী বেঁকে বসায় বিলটি উত্থাপন করা সম্ভব হয়নি। বর্তমান বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর পার্লামেন্টের শীতকালীন অধিবেশনে ভারতের সংবিধান সংশোধন করে এ চুক্তি বাস্তবায়নের কথা শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। পরে মমতা ছিটমহল বিনিময়ের ব্যাপারে তার আপত্তি তুলে নেন। বাংলাদেশ সফরের সময়ও তিনি এই অনাপত্তির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।  চলতি রাজ্যসভার অধিবেশনে বহু প্রতাশিত এ বিলটি পাশের কথা রয়েছে।

জেআই