ভোলা জেলার তজুমদ্দিন থানার মেঘনা নদীতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৯ ডাকাতকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জেলেরা।

গতকার বৃহস্পতিবার (৯আগষ্ট) বিকাল ৫ টায় উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ চর নাছরিন সংলগ্ন মেঘনা নদী হতে তাদের আটক করা হয়। এ সময় আহত ৫ কৃষক ও ৬ জলদস্যূকে রাত সোয়া ৮টার দিকে চিকিৎসা জন্য তজুমদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

থানা পুলিশ সূত্রে ও হাসপাতালে আহত মালেক মাঝি জানান, সোনাপুর ইউনিয়নের মহেষখালী নামক এলাকা থেকে চর নাছরিনের উদ্দেশ্যে একটি যাত্রিবাহী ট্রলার ছেড়ে যায় বিকাল ৪টায়। আধাঘন্টা পর যাত্রীবাহী ট্রলারটি চর নাছরিন সংলগ্ন এলাকায় পৌছলে তীরের কাছাকাছি অপর একটি ট্রলারের গতিবিধি দেখে সন্দেহ হয় যাত্রীদের। এসময় যাত্রীরা মাছ ঘাটের লোকজনকে ফোন করে নদীর তীরে আসতে বলে।

পরে ঘাটের মাঝি-মাল্লারা অপর একটি ট্রলার নিয়ে ডাকাত দলকে ধাওয়া করে। এক পর্যায়ে ডাকাতের ট্রালারটি বরিশালের খাল নামক মাছ ঘাটের দিকে চলে যেতে থাকে। জেলেদের ফোনে সংবাদ পেয়ে বরিশালের খালের মাছ ঘাটের জেলেরা আরেকটি ট্রলার এসে ডাকাতদের সামনে থেকে ধাওয়া করলে রগকাটা চর সংলগ্ন মেঘনায় এসে মুখোমুখি সংঘর্ষ বাঁধে। জেলেরা পুলিশ ও কোস্টগার্ডকে সংবাদ দেয়।

এসময় ডাকাতরা জেলেদের উপর এলোপাথারী ছড়া গুলি ছোরে ও কুপিয়ে আহত করে ৩ জেলেকে। পরে ডাকাতরা লোকালয়ের গহীন জঙ্গলে ঢুকে পড়লে জেলেরা ৯ ডাকাতকে আটক করে গণধোলাই দেয়। বাকীরা গহীন জঙ্গলে পালিয়ে যায়। এরপর পুলিশ ও কোস্টগার্ড সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌছলে আটককৃতদের স্থানীয়রা পুলিশের হাতে তুলে দেন।

আটককৃত ৯ ডাকাতের মধ্যে ইসমাইল ওরফে কালু (২৫), মাহফুজ (৪৫), ফরিদ (৪০), আশরাফ (৩৮) এর বাড়ি রামগতি থানায় এবং নজির (৬৫) এর বাড়ি চরফ্যাশন উপজেলায় বলে জানা গেছে। অপর ৪ ডাকাতকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে থানায় নিয়ে আসা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত তাদের নাম ঠিকানা জানা যায়নি।

তজুমদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোঃ ফারুক হোসেন জানান, পুলিশের নেতৃত্বে কোষ্ট গার্ড ও স্থানীয় জেলেদের সহায়তায় ৯ ডাকাতকে আটক হরা হয়েছে।আটককৃত ৯ ডাকাতের মধ্যে ৬জন পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন আছে। তাদের নামে ডাকাতির প্রস্তুতির মামলা দায়ের করা হবে।

শাহীন/জেড