কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের ইয়াবা মহাজন বার্মাইয়া জিয়াবুল পুলিশী গ্রেফতার এড়াতে কুতুপালংয়ের প্রভাবশালী এক পরিবারের ছত্রছায়ায় আত্মগোপনে রয়েছে। বুধবার দিবাগত রাত ৮ টায় কুতুপালংস্থ ভাড়াবাসায় জিয়াবুলকে গ্রেফতারে উদ্দেশ্যে পুলিশ অভিযান চালায়। কিন্তু গ্রেফতার এড়াতে জিয়াবুল আগে থেকেই আত্মগোপনে চলে যায়।

জানা গেছে, নাইক্ষ্যংছড়ির পুলিশ গত সোমবার দিবাগত রাত ৯ টায় মিয়ানমারের রাইম্যাখালী থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবার চালান নিয়ে তুমব্রু সীমান্ত পাড়ি দিয়ে কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরে আসছিল নুরুল ইসলাম নামক মিয়ানমারের এক যুবক। পুলিশের একটি দল গোপন সুত্রে খবর পেয়ে ঘুমধুম রাবার বাগান সংলগ্ন থেকে ইয়াবার চালান বহনকারীকে আটক করতে সক্ষম হয়। ইয়াবাসহ আটক মিয়ানমারের তুমব্রু এলাকার নাগরিক নুরুল ইসলামের দেহ তল্লাশি চালিয়ে ১০০০ পিচ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

ওই সময় আটক মিয়ানমার নাগরিক নুরুল ইসলাম সীকারোক্তিতে বলেন ইয়াবা গুলো কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের অবস্থানকারী জিয়াবুল হকের। সে কুতুপালং বাজারে দ্ধিতল একটি বিল্ডিংয়ের উপর তলায় ভাড়ায় বসবাস করে। তার স্ত্রী হালিমা রেজিস্টার্ড ক্যাম্পের হলেও কুতুপালংয়ে ভাড়া বাসায় থাকে। যার এমআরসি নং- ২০৩৫২, ব্লক- ডি, শেড নং- ১৯, রুম নং- ৪/৫। জিয়াবুলের পিতার নাম শামশুল আলম হলেও কখনো মোঃ হাকিম, আবদুল হাকিম, বলাইয়াসহ একাধিক ছন্দ নাম ব্যবহার করে থাকে জিয়াবুল। রেজিষ্ট্রার্ট রোহিঙ্গা শিবিরে রেশন বোর্ডে পিতার নাম লিপিবদ্ধ করেছে দিন মোহাম্মদ, মাতার নাম নুর আয়েশা। আশ্বর্য জনক হলেও সত্য কখনো চেহেরায় দাড়ি, কখনো দাড়ি ছাড়া।

এই জিয়াবুল এক সময় মালয়েশিয়া সহ মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে সফর করে রোহিঙ্গাদের নামে অর্থ সংগ্রহ করতো। বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করে এদেশে চলে এসে ঢাকা, চট্রগ্রাম, কক্সবাজার, উখিয়ার কুতুপালং ও টেকনাফের বিভিন্ন স্থানে মরণ ঘাতক ইয়াবা ব্যবসা শুরু করে। যেখানে যে সময় অবস্থান করে, সেখানকার প্রভাবশালী লোকজনের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে অবৈধ ব্যবসা নির্বিঘ্নে চালিয়ে যেতো। ব্যবহার করতো ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী লোকজন। স্থানীয়দের ছত্রছায়ায় থাকে দাপিয়ে বেড়ায় রোহিঙ্গা জিয়াবুল। ইতিপূর্বে তার বৃহৎ ইয়াবার চালান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হলেও একটি প্রভাবশালী চক্রের তদবিরে মোটা টাকার বিনিময়ে ইয়াবা বাহী নোহা গাড়িটি কৌশলে ছাড়িয়ে আনে বলে জনশ্রুতি রয়েছে।

ইয়াবা ব্যবসায়ের ধারাবাহিকতায় কুতুপালং বাজারে অবস্থান নিয়ে ইয়াবা ব্যবসা চালাচ্ছিল সে। গত সোমবারে জিয়াবুলের ইয়াবার বৃহৎ চালান আসার খবর পেয়ে পুলিশ আগে থেকেই চেষ্টা চালায়। ছোট চালান পুলিশের হাতে ধরা পড়লেও বৃহৎ চালান পিছন দিক থেকে কৌশলে সটকে পড়ে। জিয়াবুলের ইয়াবার চালান কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরে যে সময় ঢুকবে, ইয়াবা সিন্ডিকেটের সদস্যরা মোটর সাইকেল মহড়া দিয়ে প্রশাসনের টহল দলের গতিবিধি লক্ষ্য করতো। ঠিক সোমবারের ঘটনা একই হলেও আটক করা হয় জিয়াবুলের ইয়াবার চালান বহনকারী মিয়ানমার নাগরিক নুরুল ইসলামকে।

পরদিন মঙ্গলবার আটক ইয়াবার বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মামলা রুজু করা হয়। মামলা নং -০৫ /১৭ ,তারিখ -২৫ /০৪ /২০১৭ ইংরেজী। ধারা ১৯৯০ইং সনের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯ (১)এর ৯ (খ) সহ বৈদেশিক নাগরিক আইনের ১৪ ধারা। এতে ইয়াবাসহ আটক মিয়ানমারের তুমব্রুর আনু মিয়ার ছেলে নুরুল ইসলাম ও ভাড়া বাসায় অবস্থানরত জিয়াবুল হক কে আসামী (পলাতক) করা হয়। আটক আসামী নুরুল ইসলাম কে মঙ্গলবার ১ হাজার পিচ ইয়াবা সহ নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় সোপর্দ করা হয় বলে অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া ঘুমধুম কেন্দ্র পুলিশের ইনচার্জ মোঃ এরশাদ উল্লাহ জানান।উক্ত জিয়াবুল দীর্ঘদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোঁখ ফাঁকি দিয়ে অস্ত্র ,জঙ্গী তৎপরতা ও ইয়াবা পাচারে তৎপর ছিল।
জেড/মানিক