রাজধানীর খিলগাঁও থানা এলাকার বনশ্রীতে গৃহকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু ও এর পরবর্তী উদ্ভূত বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শুক্রবার দিবাগত রাতে খিলগাঁও থানায় পৃথক মামলা দুটি দায়ের করা হয়। একটি মামলার বাদী গৃহকর্মী লাইলির ভাসুর শহিদুল ইসলাম এবং অপর মামলার বাদী পুলিশ। পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ায় অপর মামলাটি করা হয়েছে।

খিলগাঁও থানা সূত্রে জানা গেছে, গৃহকর্তা মইনউদ্দিন, তার স্ত্রী ও বাড়ির কেয়ারটেকার কামালসহ দুই/তিনজনকে অজ্ঞাত আসামি উল্লেখ করে মামলা করেছেন শহিদুল ইসলাম। এ মামলায় মইনউদ্দিন ও বাড়ির কেয়ারটেকার তোফাজ্জালকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এ ছাড়া মইনউদ্দিনের স্ত্রী শাহনাজকে শনিবার ভোরের দিকে জি ব্লকের ওই বাসা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মামলা দুটির বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন খিলগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী মাইনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ভিকটিমের পরিবার একটি হত্যা মামলা ও পুলিশের কাজে বাঁধা দেওয়ায় আমরা একটি মামলা করেছি।’

শুক্রবার সকালে বনশ্রীর জি ব্লকের ৪ নম্বর রোডের ১৪ নম্বর বাসার নিচতলায় মইনউদ্দিনের বাসায় গৃহকর্মী লাইলি ওরফে মরিয়মকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে বাসার সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এরপর লাইলির স্বজনরা অভিযোগ তোলেন, ওই গৃহকর্মী আত্মহত্যা করেননি, তাকে হত্যা করা হয়েছে। গৃহকর্তা মইনউদ্দিন এটিকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

লাইলির স্বজনদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে মইনউদ্দিনের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এলাকাবাসী। এ সময় তারা একটি গাড়ি পুড়িয়ে দেন। মইনউদ্দিনের ঘর লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। পুলিশ বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে স্থানীয়রা পুলিশের সঙ্গেও দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

এমএনজে