কাশ্মীরের নির্যাতিত মুসলমানদের সমর্থনে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ‘কাশ্মীর সংহতি পরিষদ’।
শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) হাতিলঝিল জোনোর উদ্যোগে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মাওলানা মুফতি হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিলটি মগবাজার চৌরাস্তা রেল গেইট থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ ওয়ারলেস মোড়ে এসে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মাওলানা মুফতি হাবিবুর রহমান, মাওলানা আহসান উল্লাহ, মাওলানা মুফতি শামসুল হুদা, মাওলানা ক্বারী গোলাম মাওলা ও মাওলানা মুফতি শায়েস্তা খান প্রমূখ।
সমাবেশে মাওলানা মুফতি হাবিবুর রহমান বলেন, “কাশ্মীর অতীতে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র ছিল। কিন্তু মহারাজা হরিসিং-এর বিশ্বাসঘাতকতার কারণেই ভূ-স্বর্গখ্যাত কাশ্মীর ভারতভূক্ত হয়েছে। সে থেকেই মুক্তি পাগল কাশ্মীরিরা তাদের আজাদীর সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছে। ভারত সরকার তাদের নায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার জন্য দলন-পীড়নের পথ বেছে নিয়েছে। সে ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি ভারত সরকার কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা সংক্রান্ত সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করেছে। কিন্তু কোন ষড়যন্ত্রই কাশ্মীরের স্বাধীকারের আন্দোলন থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না বরং জুলুম-নির্যাতন উপেক্ষা করেই কাশ্মীর একদিন স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।”
তিনি কাশ্মীরের স্বাধীনতার দাবি আদায়ে বিশ^ মুসলিমকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।
তিনি বলেন, “কাশ্মীর ইস্যু কখনোই ভারতের অভ্যন্তরীণ ইস্যু নয় বরং এটি একটি আন্তর্জাতিক ইস্যু। ১৯৪৮ সালের জাতিসংঘের ৪৭ নং রেজুলেশন অনুযায়ি কাশ্মীরের জনগণের ভাগ্য নির্ধারণের জন্য গণভোটের প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। ভারত এই প্রস্তাবে প্রথম দিকে রাজী থাকলেও গণভোটে হেরে যাওয়ার আতঙ্কেই সে অবস্থান থেকে সরে এসে বল প্রয়োগের মাধ্যমে কাশ্মীরিদের নায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার পথ বেছে নিয়েছে। সে ধারাবাহকতায় এ পর্যন্ত লক্ষাধিক কাশ্মীরি হত্যা করা হয়েছে। অগণিত নারী ভারতীয় বাহিনীর কাছে সম্ভ্রম হারিয়েছেন। কিন্তু মুক্তি পালন কাশ্মীরি জনতার আজাদী আন্দোলন বন্ধ হয়নি বরং জুলুম-নির্যাতন যত বাড়ছে স্বাধীকার আন্দোলন ততই শানিত ও বেগবান হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “যে মানদন্ডে ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাজিত হয়েছিল, সে মানদন্ডে কাশ্মীর পাকিস্তানের অন্তর্ভূক্ত হওয়ার কথা ছিল। মূলত ভারতীয়দের ষড়যন্ত্র ও মুসলিম বিদ্বেষের কারণেই অনাকাঙ্খিতভাবেই কাশ্মীর ভারতভূক্ত হয়েছিল। কিন্তু কাশ্মীরি জনতা এই পরাধীনতা কখনো মেনে নেয়নি ও নেবেও বরং পূর্ণ স্বাধীনতাই হচ্ছে কাশ্মীর সমস্যার একমাত্র সমাধান।”
তিনি কাশ্মীর ইস্যুর শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য জাতিসংঘ প্রস্তাব মোতাবেক অবিলম্বে জাতিসংঘের তত্ত¡বধানে গণভোট আয়োজনের আহবান জানান। অন্যথায় ভূস্বর্গ কাশ্মীরে কখনোই শান্তি ফিরে আসবে না। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।
এমবি





