বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, র্যাব, পুলিশ, বিজিবি এখন রাষ্ট্রের নয়, আওয়ামী লীগের। তাই আওয়ামী লীগের দাবি তারা দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী দল। আওয়ামী লীগের সম্মেলন সম্পর্কে তিনি বলেন, বিএনপি সম্মেলন আয়োজন করলে র্যাব, পুলিশ বিজিবি তা পণ্ড করার জন্য মরিয়া হয়ে হয়ে ওঠে। আর আওয়ামী লীগের সম্মেলন সফল করতে তারা দিনরাত কাজ করে। যে কারণে আওয়ামী লীগের সম্মেলন সুন্দর ও সুষ্ঠু হয়েছে।
বিএনপির সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবনকে দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ মানুষের কল্যাণের জন্য প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের জাতীয় সম্পদ ধ্বংস করে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করতে দেয়া হবে না।
তিনি বলেন, যে গণতন্ত্রের জন্য লাখ লাখ মানুষ জীবন দিয়েছে সেই গণতন্ত্র আজ নিখোঁজ। খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। হারানো গণতন্ত্র খুঁজে পেলে নিখোঁজ ইলিয়াস আলীসহ যারা খুন ও গুম হয়েছে তাদের খুঁজে পাওয়া যাবে।
তিনি আরও বলেন, আজকে বানিয়াচংয়ে যে সুন্দর পরিবেশে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেটা অবশ্যই অনুকরণীয়। এভাবে যদি সমগ্র বাংলাদেশে আমাদের নেতাকর্মীরা সমাবেশ করতে পারতেন, তাহলে আমাদের আর কোনো কষ্ট থাকত না, আমরা আমাদের গণতন্ত্রের কথা বলতে পারতাম, কিন্তু আমাদের নেতাকর্মীরা বাসায় বসে কোনো পরামর্শ করলে বলা হয় সেখানে জঙ্গিবাদ নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।
আজকে জঙ্গিবাদের নামে আমাদের নেতাকর্মীদের নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে; যা কখনও গণতন্ত্রের জন্য সুফল বয়ে আনতে পারে না। সিলেটের প্রিয় নেতা ইলিয়াস আলী প্রায় ৪ বছর যাবত নিখোঁজ। তার সন্তানেরা ঈদের দিন দরজা খুলে বসে থাকে তাদের বাবা ফিরে আসবেন বলে। হবিগঞ্জের প্রিয় নেতা মেয়র জিকে গউছকে কিবরিয়া হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে; অথচ যেদিন কিবরিয়া খুন হলেন, জিকে গউছ তখন পবিত্র হজ্ব পালনের জন্য সৌদি আরবে অবস্থান করছিলেন। কিবরিয়া হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত যতগুলো চার্জশিট হয়েছে, কোনো চার্জশিটই তার পরিবার গ্রহণ করেনি। এভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের নেতা কর্মীদের মনোবল ভেঙে দেয়ার যড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার, যত যড়যন্ত্রই হোক না কেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সকল যড়যন্ত্র মোকাবিলা করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সামনের আন্দোলন-সংগ্রামে সবাইকে শরিক হতে হবে।
গত শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাভোকেট মঞ্জুর উদ্দিন আহমেদ শাহীনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন বকুল ও সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মিয়ার যৌথ পরিচালনায় এতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সংবর্ধিত ব্যক্তি বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক এমপি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাভোকেট ফজলুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক দিলদার হোসেন সেলিম।
অন্যানের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আমিনুর রশীদ এমরান, বিএনপি নেতা ও বানিয়াচং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ বশীর আহমেদ, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও জেলা শ্রমিক দল সভাপতি ইসলাম তরফদার তনু, সাধারণ সম্পাদক এসএম বজলুর রহমান। ওই সংবর্ধনা সভায় প্রায় ২০ হাজার জনতার সমাগম ঘটেছিল।
জারিফ





