নববর্ষে যা ঘটেছে, তাতে কমিশন বিস্মিত, মর্মাহত ও লজ্জিত। আমরা সব নারীর কাছে ক্ষমাপ্রার্থীবলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘এ ঘটনা আবারো স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে-কী হিংস্রতা ও নগ্নতা আমাদের মনের গহীনে বাসা বেঁধেছে। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা কুৎসিত ও বিকারগ্রস্ত পাষণ্ড।’

সোমবার সকালে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মিজানুর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য রিয়াজুল হক, সদস্য মাহফুজা খানম ও অ্যারোমা দত্ত বক্তব্য দেন।

মিজানুরের দাবি, পরিকল্পিতভাবেই সেদিনকার ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

নারী লাঞ্ছনার ঘটনার পেছনে ধর্মান্ধতা ও পুরুষতন্ত্র কাজ করেছে-দাবি করে মিজানুর বলেন, ধর্মের অপব্যাখ্যা দিতে যারা সুবিধা নিতে চান, যারা জনপরিসরে নারীর উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারেন না, যারা মনে করেন পহেলা বৈশাখ উদযাপন ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যারা এই সর্বজনীন রূপকে পছন্দ করেন না, তারাই এই ঘটনা ঘটিয়েছেন।

দ্বিতীয়ত,যারা পুরুষতন্ত্রের ভাবাদর্শ দ্বারা যারা জর্জরিত, তাদেরই জনপরিসরে নারী দেখে বুনো শুয়োরের মতো গজগজ করছে।

এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মিজানুর।

তিনি বলেন, পুলিশ অপরাধীদের ধরা, সিসি ক্যামেরা দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা-এসব ক্ষেত্রে অনাগ্রহ দেখিয়েছে। সমাজের বিভিন্ন অংশ থেকে প্রতিবাদ হওয়ার পর পুলিশ কিছুটা তত্পর হয়েছে। কিন্তু তা যেন লোক দেখানো না হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকেও ঘটনার তদন্ত করা দরকার।

গণমাধ্যমের উদ্দেশে মিজানুর রহমান বলেন, ‘এই ঘটনার সংবাদ তুলে ধরে গণমাধ্যম দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে। তবে সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের খবরের ভিড়ে যেন এই সংবাদ হারিয়ে না যায়। গণমাধ্যম যেন নিয়মিত এ ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখে’।

সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের মেয়র প্রার্থীরা নারী নিপীড়ন নিয়ে কিছু না বলায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মিজানুর বলেন, ‘আগামী দিনে যারা নগরপিতা হবেন, তাদের নীরবতায় আমরা বিচলিত। যৌন হয়রানি বন্ধে তাদেরও সুস্পষ্ট অঙ্গীকার চাই।’

মাহফুজা খানম বলেন, ‘এই উত্সব উপলক্ষে তিন স্তরের নিরাপত্তা ছিল। তাহলে কী করল তারা?’

অ্যারোমা দত্ত বলেন, ধর্মান্ধতা ক্যানসারের মতোই বেড়ে চলেছে। এটা বাংলাদেশের নারীদের জন্য হুমকি।

এসএইচ