‘একটা বড় ইলিশ কিনব্যার গেলি ৫০ মণ মুলা বেইচ্যাও তো কাম হবি না।’ মুচকি হেসে বললেন কৃষক এনামুল হক। পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার শহীদনগর গ্রামের কৃষক এনামুল।

বৃহস্পতিবার তিনি পাঁচ মণ মুলা বিক্রি করতে এসেছিলেন বেড়া উপজেলার করমজা হাটে। কথা প্রসঙ্গে মুলা বিক্রির টাকায় বড় ইলিশ কেনার কথা তুলতেই ওই মন্তব্য এনামুলের।

এনামুলের এ মন্তব্য অবিশ্বাস্য হলেও সত্য। বেড়া ও সাঁথিয়ার কৃষকেরা উৎপাদিত মুলা হাটে নিয়ে পানির দরেও বেচতে পারছেন না। প্রতি মণ মুলা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা মণ দরে!

অন্যদিকে বেড়া-সাঁথিয়ার বাজারে বেশ কয়েক দিন ধরে দেড় থেকে দুই কেজি ওজনের ইলিশ উঠতে শুরু করেছে। এসব ইলিশের দামও বেজায় চড়া। প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকায়। সেই হিসেবে একেকটি ইলিশের দাম তিন থেকে চার হাজার টাকা। অবশ্য বাজারে ছোট ইলিশ (৫০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজন) বিক্রি হচ্ছে সাড়ে পাঁচ শ থেকে সাত শ টাকা কেজি দরে।

কৃষকেরা অবশ্য মুলা বিক্রি করে বড় ইলিশ কেনা তো দূরের কথা, ছোট ইলিশও কেনার কথা ভাবছেন না। তাঁদের মাথায় এখন একটাই চিন্তা। কী করে জমির মুলার ‘জঞ্জাল’ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। কারণ, জমির মুলা না ওঠাতে পারলে পেঁয়াজসহ অন্য কোনো ফসলের আবাদ সেই জমিতে তাঁরা করতে পারছেন না। এ জন্য অনেকেই হাটে দাম না পেয়ে জমির মুলা তুলে ফেলে দিচ্ছেন বা গরুকে খাওয়াচ্ছেন।

করমজা হাটের সবজির আড়ত কুদরত ভান্ডারের ব্যবস্থাপক বেংকু মিয়া বলেন, ‘হাটে মুলার আমদানি প্রচুর হলেও চাহিদা নাই। অনেক কৃষক ৫০ থেকে ৬০ টাকা মণ দরেও মুলা বেচপ্যার পারত্যাছে না। মুলা বেচপ্যার না পাইর‍্যা কেউ কেউ হাটেই তা ফালায়া দিয়্যা যাত্যাছে।’

বেড়ার রূপপুর গ্রামের কৃষক দীন মোহাম্মদ বলেন, ‘মুলা আবাদ করা জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করা লাগবি। এ জন্য অনেকেই মুলা তুইল্যা গরুকে খাওয়াচ্ছে। কারণ হাটে ফেলানো দামেও মুলা বেচা যাত্যাছে না।’

মাহমুদ