শাহজাহানপুরের রেলওয়ে কলোনীতে পরিত্যক্ত পানির পাইপে পড়ে যাওয়া শিশু জিহাদকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারের পর পরই তাকে হাসপাতালে নেয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে জিহাদ জীবিত কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

শনিবার দুপুর তিনটার দিকে ঢাকা পলিটেকনিক ইনিসটিটিউট এর ছাত্র ফারুক ও রহমত জিহাদকে উদ্ধার করেছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

এর  আগে বেলা আড়াইটায় সংবাদ সম্মেলনে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক আলী আহমেদ খান উদ্ধার অভিযান স্থগিত ঘোষণা করেন।

শাহজাহানপুরে রেলওয়ে কলোনী এলাকায় ঘটনাস্থলের পাশেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় ফায়ার সার্ভিস ছাড়াও বিভিন্ন সংস্থার কর্তা ব্যাক্তিরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

শুক্রবার বার বার দাবি করা হচ্ছিল যে প্রায় ৬০০ ফুট পাইপের গভীরে পড়ে যাওয়া শিশুটি বেঁচে আছে, কথা বলছে, এমন কি জুসসহ পাঠানো খাবার খেয়েছে।

এ ব্যাপারে মহাপরিচালকের কাছে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাত্র ১৬ ইঞ্চি চওড়া পাইপ লাইনের প্রায় ৬০০ ফিট গভীর থেকে শিশুটির কথা শোনা গেছে এমন তথ্য ভুল হতে পারে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরাও শুক্রবার উদ্ধার অভিযান চলাকালে একাধিকবার বলেছেন, শিশুটির কথা শোনা গেছে, সে জুস খেয়েছে- সেই কথার ভিত্তি কী? এমন প্রশ্নের জবাবে মহাপরিচালক বলেন, অনেক কিছুই শোনা যেতে পারে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি সব তথ্যের ভিত্তিতে শিশুটিকে বাঁচাতে।

তিনি বলেন, কিছুদিন আগে ভারতেও এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল, সেখানে গর্তটি আরও অনেক বেশি চওড়া ছিল। আর এই (শাহজাহানপুরের) ঘটনায় গর্তটি যতটা সংকীর্ণ তাতে অনেক কিছুই ঘটতে পারে। হতে পারে পাইপের ভেতরে কোথাও আটকে থাকতে পারে শিশুটি।

সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, তাদের ধারণা শিশুটি আর বেঁচে নেই। পাইপের মধ্যে কোন ভিকটিম (শিশুটি) নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

উল্লেখ্য, গতকাল (শুক্রবার) বেলা সাড়ে তিনটার দিকে শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনী এলাকায় একটি পরিত্যক্ত পানির পাইপের ভেতর জিয়াদ নামে সাড়ে তিন বছরের একটি শিশু পড়ে যায় বলে খবর পাওয়া যায়।

পরে ফায়ার সার্ভিস শিশুটিকে উদ্ধারে কাজ শুরু করে। সারা বিকেল ও সারারাত নানা কসরত শেষে অবশেষে আজ (শুক্রবার) বিকেলে উদ্ধার কাজ স্থগিত ঘোষণা করা হয়।

এর আগে শুক্রবার রাতে রানা প্লাজা ধ্বসের সময় উদ্ধার অভিযানে অসম সাহসিকতা প্রদর্শনকারী মোমিনুল নামে এক স্বেচ্ছাসেবক যুবক পাইপের মধ্যে নামতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ফায়ার সার্ভিস তাকে নামতে দেয়নি।

আরও দক্ষ লোক দরকার এমন যুক্তি দেখিয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থল থেকে মোমিনুলকে সরিয়ে দেয়। এর প্রায় ১২ ঘন্টা পর পাইপে শিশুটির হদিস পাওয়া যাচ্ছে না এমন কথা বলে উদ্ধার কাজ আপাতত স্থগিত ঘোষণা করে ফায়ার সার্ভিস।

ফায়ার সার্ভিসের সবশেষ এই ব্রিফিংয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সংস্থাটির সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

এএইচ