গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর শিল্পাঞ্চলের সারদাগঞ্জ এলাকায় স্বামীর বাড়ি থেকে বৃহস্পতিবার রাতে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ইয়াসমিন আক্তার (২২) জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার ঢালজোড়া ইউনিয়নের চর আশাপুর গ্রামের আবদুর রাজ্জাক মিয়ার মেয়ে।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্বামী মাসুদ রানা ইয়াসমিন আক্তারকে হত্যার পর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখে। ওই ঘটনার পর থেকে মাসুদ রানা পলাতক বলে পুলিশ জানিয়েছে। 

পুলিশ, এলাকাবাসী ও নিহতের ভাই মিজানুর রহামন জানান, সাত বছর আগে পারিবারিকভাবে সারদাগঞ্জ গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মাসুদ রানার সাথে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ইমরান নামের চার বছরের একটি ছেলে রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই মাসুদ রানা মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। মাদক সেবন করার জন্য প্রায়ই টাকার জন্য ইয়াসমিনকে মারধর ও চাপ সৃষ্টি করত।

এ নিয়ে তিন দফায় মাসুদকে কিছু টাকাও দেয়া হয়। ঈদের দিন মাসুদ যৌতুকের টাকা হিসাবে দেড় লাখ টাকা ও চার ভরি স্বর্ণ দাবি করে। ইয়াসমিন আক্তার ঈদের দিনই স্বামী মাসুদকে জানিয়ে দেয় তার গরিব বাবার কাছ থেকে আর কোনো টাকা এনে দিতে পারবে না। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনমালিন্য আর ঝগড়া চলে আসছিল।

বৃহস্পতিবার দুপুরে আবার মাসুদ রানা যৌতুকের টাকার জন্য ইয়াসমিন আক্তারকে বাবার বাড়ি কালিয়াকৈরে যাওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। এ সময় ইয়াসমিন আক্তার বাবার কাছে থেকে টাকা চাওয়া এমনকি বাবার বাড়ি যাবে না বলে জানিয়ে দিলে মাসুদ রানা ক্ষিপ্ত হয়ে গলা টিপে নিজ ঘরের বিছানার ওপর হত্যা করে।

পরে স্ত্রীর ওড়না দিয়ে কোনো রকমে ঘরের একটি আড়ার সাথে ফাঁস লাগিয়ে ঝুলিয়ে দেয়। পরে মিজানুর রহমানের মোবাইল ফোনে ফোন দিয়ে জানায় তার বোন খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছে। দ্রুত যেন তাকে দেখতে চলে আসে।

খবর পেয়ে নিহত ইয়াসমিনের আত্মীয়স্বজনেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, ইয়াসমিন নিজ ঘরে ওড়না দিয়ে ফাঁসিতে ঝুলে রয়েছে। এ সময় ইয়াসমিনের দুই পা মাটিতে ছুঁয়ে থাকতে দেখে নিহতের স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় স্বামী মাসুদ রানা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।  

খবর পেয়ে জয়দেবপুর থানার চক্রবর্তী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই হারুণ অর রশিদ নিহতের লাশ উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজ উদ্দিন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে। 

মিজানুর রহমান আরো জানান, আমার ছোট বোনের কাছে ঈদের দিন দেড় লাখ টাকা ও চার ভরি স্বর্ণ দাবি করে মারধর করে বলে ফোনে আমাকে জানায়। আমরা তাকে যৌতুকের টাকা না দেয়ায় হত্যা করে লাশ ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রেখেছে। আমি হত্যাকারীকে গ্রেফতার করে বিচারের দাবি করছি। 

জয়দেবপুর থানার চক্রবর্তী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই হারুণ অর রশিদ জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করে শহীদ তাজ উদ্দিন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর বলা যাবে এটা হত্যা না আত্মহত্যা।

এমএনজে