দাফনের সময় জীবিত হওয়া নবজাতকটি ৬দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মারা গেছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে ঢামেক হাসপাতালের ২১১ নম্বর নবজাতক (মরিয়ম) ওয়ার্ডের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায মরিয়মের মৃত্যু হয়।

ঢামেক হাসপাতালের ওই ওয়ার্ডে কর্তব্যরত চিকিৎসকের বরাত দিয়ে নবজাতকের বাবা ইয়াসিন মোল্লা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি কান্নাকন্ঠে বলেন, আমার সোনামনি মরিয়মকে আর বাঁচানো গেল না বুঝি? আমি তার মাকে কী করে বুঝাবো আমাদের মরিয়ম আর নেই।

দাফনের আগে নবজাতকের বাবা নাম রেখে ছিল মরিয়ম। গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মালেঙ্গা গ্রামের সন্তানসম্ভবা গৃহবধূ শাহিনুরকে তার স্বামী ইয়াসিন মোল্লা গত ১৩ অক্টোবরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এসে ২১২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। ওই ওয়ার্ডে শাহিনুর শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ভোরের দিকে স্বাভাবিকভাবে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন।

নবজাতকের স্বজনরা জানান, জন্মের পর ওই নবজাতককে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

পরে ওই নবজাতককে একটি প্যাকেটে ভরে তার বাবা ইয়াসিনের কাছে হস্তান্তর করে চিকিৎসকরা বলেন, নবজাতকটি মৃতই জন্ম নিয়েছে।

পরে ওই প্যাকেটে থাকা নবজাতকটিকে নিয়ে সকালে ইয়াসিন আজিমপুর কবরস্থানে যান। তখন আজিমপুর কবরস্থানের লোকজন দাফনের জন্য ইয়াসিনের কাছে ১৪ শ' টাকা দাবি করে তার কাছে তখন টাকা ছিল না। অর্থনৈতিক কারণে তাকে দাফন করতে না পারায় একপর্যায়ে ইয়াসিন নবজাতকটিকে নিয়ে বসিলা রায়েরবাজার কবরস্থানে গেলে সেখানের লোকজন তাকে দাফনের জন্য প্যাকেট খুললে নবজাতকটি নড়েচড়ে ওঠতে দেখেন। এ সময় চমকে যান ইয়াসিন।

পরে তিনি দ্রুত নবজাতককে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসেন। নবজাতকটি ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখেন। সেখানের চিকিৎসকরা বলেছেন, নবজাতকের অবস্থা তেমন ভালো না, যেকোনো সময় কিছু ঘটে যেতে পারে।

ইয়াসিন মোল্লা বলেন, এটা ছিল তার দ্বিতীয় সন্তান। ইসরাত জাহান (৯) তার আরো একটি কন্যাসন্তান আছে।

তিনি বলেন, ঢামেক হাসপাতালে সন্তান জন্মের পরপরই সেখানের লোকজন হ্যান্ড গ্লাভস রাখার একটি খালি বড় প্যাকেটে ভরে নবজাতককে মৃত বলে তাকে দেন। সেই প্যাকেটটি নিয়েই প্রথমে আজিমপুর কবরস্থানে গিয়েছিলাম। সেখানে অর্থনৈতিক কারণে তাকে দাফন করতে পারিনি। তারপর নবজাতককে নিয়ে বসিলা রায়েরবাজার কবরস্থানে গেলে সেখানের লোকজন তাকে দাফনের জন্য প্যাকেট খুললে নবজাতককে নড়েচড়ে ওঠতে দেখেন। পরে তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসি এবং ভর্তি করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সংবাদ সম্মেলনে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, “দাফনের সময় জীবিত উদ্ধার নবজাতককে মৃত ঘোষণার বিষয়ে চিকিৎসকদের ব্যর্থতা আছে। তারা আরো পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে পারতেন। তবে এটাও সত্যি যে শিশুটির বেঁচে ফেরার ঘটনাটিও অস্বাভাবিক।” তিনি বলেন, “এই ঘটনায় আমাদের চার সদস্যের তদন্ত কমিটি কাজ করেছে। তদন্ত কমিটি চিকিৎসকদের ইচ্ছাকৃত কোনো ভুল খুঁজে পায়নি। এমন ঘটনার অনভিজ্ঞতা এবং শিশুটির অস্বাভাবিকভাবে বেঁচে ফেরার জন্য ঘটেছে এটা।”

এর পরদিনই দাফনের সময় জীবিত হওয়া নবজাতকটি ঢামেক হাসপাতালে মারা গেছে।

এমবি