পিপলস লিজিং কোম্পানি থেকে আত্মসাৎ করা রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার (পিকে হালদার) হালদারের ৩ হাজার কোটি টাকা ফ্রিজ (জব্দ) করেছে দুদক।

টাকাগুলো ফ্রিজ করার জন্য বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি দিয়েছেন অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার প্রধান।

চিঠিতে বলা হয়, পিকে হালদার রিলায়েন্স ফাইন্যান্সে এমডি থাকা অবস্থায় তার আত্মীয়স্বজনকে দিয়ে আরও বেশ কয়েকটি লিজিং কোম্পানির ইনডিপেন্ডেন পরিচালক বানান এবং একক কর্তৃত্বে অদৃশ্য শক্তির মাধ্যমে পিপলস লিজিংসহ বেশ কয়েকটি লিজিং কোম্পানির টাকা বিভিন্ন কৌশলে বের করে আত্মসাৎ করেন।

পিপলস লিজিংয়ের আমানতকারীদের ৩ হাজার কোটি টাকা বিভিন্ন কৌশলে আত্মসাৎ করেন এবং ওই কোম্পানিকে পথে বসিয়েছেন। এসব কোম্পানির স্থাবর সম্পদ বিক্রি করে দেন এবং আমানতকারীদের শেয়ার পোর্টফোলিও থেকে শেয়ার বিক্রি করে সমুদয় টাকা আত্মসাৎ করেন।

এ সংক্রান্ত বিষয়ে পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংসহ পিকে হালদার সংশ্লিষ্ট লিজিং কোম্পানি থেকে রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে পিকে হালদার ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ সংক্রান্ত সব নথি এবং গোয়েন্দা প্রতিবেদন সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও জানানো হয় ওই চিঠিতে।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে হঠাৎ করেই চারটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) মালিকানায় পরিবর্তন আসে। প্রথমে আড়ালে থাকলেও পরে পিকে হালদার ও তার নামসর্বস্ব কয়েকটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানায় যুক্ত হয়।

এর কয়েক বছরের মধ্যে ঋণের নামে চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকেই হাজার কোটি টাকা বের করে নেয়া হয়। এ কারণে চারটি প্রতিষ্ঠানই এখন ধুঁকছে। ইতিমধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানকে দেউলিয়া ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি তিনটিও গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না।

এএস