সাড়ে ৩ একর জমিতে মাছ চাষ করে নোয়াখালীর সাহাব উদ্দিন।এ রকম মাছ চাষ করে আরো শতাদিক চাষি। লাভের আশা দেখতে শুরু করে মাছ চাষিরা।
কিন্তু সর্বনাসা বন্যায় এসব চাষিদের সব আশা শেষ করে দেয়।আর লাভের পরিবর্তে লোকসান গুনতে হয় তাদের।
মাছ চাষি সাহাব উদ্দিন জানান বন্যায় তার ক্ষতি হয় প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা। এরকম ক্ষতি হয় প্রায় শতাদিক মাছ চাষির।
তাদের আশা ছিল সরকারের থেকে সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে আবার মাছ চাষ করে লোকসান পুষিয়ে নিবেন।সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আর্থিক সহযোগিতা চেয়ে তবে কোনো সাড়া পাননি তারা।
গত বছরের জুন থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত টানা বর্ষণে ফেনী জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ছোট ফেনী নদী ও মাতা মুহুরী নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় ফেনী সংলগ্ন নোয়াখালীর সেনবাগ, সোনাইমুড়ী ও বেগমগঞ্জ উপজেলার সবকটি গ্রামে জলাবদ্ধতা থেকে বন্যার আকার ধারণ করে।
এতে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। রাস্তাঘাট, বাড়িঘরসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুই থেকে তিন ফুট পানির নিচে তলিয়ে যায়।
প্রায় তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে এ ভয়াবহ বন্যায় বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামোর ব্যপক ক্ষতি হয়। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় মাছ চাষিরা।ঋন করে বিভিন্ন পুকুর, জলাশয়ে যারা মাছ চাষ করেছেন এ রকম শত শত ছোট বড় মাছচাষি মাছগুলোর শেষ রক্ষা করতে পারেননি।
মাছগুলো ভেসে যাওয়ার কারণে তাদের যেমন লোকসান হয় কোটি কোটি টাকা তেমনি ঋনে জর্জরিত হয়ে পড়েন সবাই।
বন্যা পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মাছচাষিরা আবারো নবউদ্যামে মাছ চাষে মনোনিবেশ করেন। প্রাণান্তকর চেষ্টা করে অনেকে সে ক্ষতি পুষিয়ে বর্তমানে মাছে লাভের মুখ দেখছেন।
তাছাড়া বাজারে মাছের পর্যাপ্ত চাহিদা থাকায় এবং ভালো দাম পাওয়ায় দিন দিন এ পেশায় আবারো আগ্রহী হচ্ছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ।
নোয়াখালী জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট মাছের চাহিদা ৭৩ হাজার ৮০৮ মেট্রিক টন। তার মধ্যে মাছের উৎপাদন এ জেলায় ৮৫ হাজার ৮৩৭ মেট্রিক টন। আর এ বিপুল পরিমাণ মৎস্য সম্পদের উৎস ৭৪ হাজার ৯২৭ হেক্টর অভ্যন্তরীণ নদী ও মোহনা এবং প্লাবনভূমীতে।
নোয়াখালী জেলা মৎস্য অফিসার মিজানুর রহমান ছিদ্দিকী জানান, গত বছর বন্যায় মাছচাষিদের ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণ করে তারা একটি তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিলেন।
তবে সেভাবে মাছচাষিদের আর্থিকভাবে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা করা না হলেও জেলা মৎস অফিসের পক্ষ থেকে সব সময় বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাছচাষে লাভবান হওয়ার ধারণা দেয়া হয়েছে।
আর তাদের দেয়া সে পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করে অনেকে এখন ধানের পরিবর্তে মাছ চাষ করছেন। কারণ বাজারে মাছের চাহিদা প্রচুর। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানার মাছ এখন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে যায়। এতে তারা ভালো দাম পাচ্ছেন।
আরাফাত / মাহমুদ





