দশ দফা দাবিতে সিলেটের জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে সিলেটের চা শ্রমিকরা। রোববার দুপুরে চা শ্রমিক সংঘের ব্যানারে তারা এই স্মারকলিপি প্রদান করেন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, যুগ যুগ ধরে চা শ্রমিকরা দুঃখ কষ্টে, অভাব-অনটনে জীবনযাপন করে আসছেন। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি তীব্রতর হয়েছে। বর্তমানে বাগানের গ্রেড অনুযায়ী ৬৭-৬৯/- টাকা দৈনিক মজুরি দেওয়া হয়। চা সংসদের আওতার বাইরের বাগানগুলোতে দৈনিক ২৪ টাকাও মজুরি দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় বাজারদরের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ন্যূনতম মজুরি মিলে না। এত কম মজুরিতে বেঁচে থাকার সংগ্রামে বিপর্যস্ত অপুষ্টিতে, রোগে-শোকে ভুগে অকালে মরতে হয় চা শ্রমিকদের।

স্মারকলিপিতে উল্লেখিত দাবিগুলো হলো- দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরি, শ্রমিকদের মজুরি বোর্ড গঠন ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন সরকার ঘোষিত গেজেট অনুযায়ী এক মাসের বেতনের সমপরিমাণ একটি উৎসব বোনাস, সাপ্তাহিক ছুটির দিনের কাজের মজুরি প্রদান, চা ও রাবার শ্রমিকদের পূর্ণাঙ্গ রেশন, আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকারসহ শ্রমিকদের পচন্দমত সংগঠন করার স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, প্রত্যেক বাগানে এমবিবিএস চিকিৎসক ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ নার্স, এ্যাম্বুলেন্সসহ সু-চিকিসার ব্যবস্থা করা, চা শ্রমিক সন্তানদেরর বিনা বেতনে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষার ব্যবস্থা এবং সকল বাগানে কলেজিয়েট স্কুল স্থাপনসহ শ্রমিক সন্তানদের শিক্ষা লাভের নিশ্চয়তা বিধান করা।

স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন চা শ্রমিক সংঘ সিলেট ভ্যালি কমিটির আহবায়ক রাধামনি মুন্ডা, যুগ্ম আহবায়ক জয় মাহাত্ব কুর্মি।

এর আগে বেলা ১২টায় শ্রমিক নেতৃবৃন্দসহ সিলেট ভ্যালির সহস্রাধিক চা শ্রমিকরা মালনিছড়া চা বাগানের পূঁজা মণ্ডপ প্রাঙ্গন থেকে রওয়ানা দিলে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন। পরে শ্রমিক নেতাদের কয়েকজন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

ঢাকা, ৩ আগস্ট (টাইমনিউজবিডি.কম) //জেডআই