দিনাজপুর শহরের রানীগঞ্জ এলাকায় একটি চালকলে বয়লার বিস্ফোরণে ২০ জন শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন। মারা গেছেন এক নারী শ্রমিক। আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ওই এলাকার যমুনা অটো রাইস মিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ওই চালকলের শ্রমিক রতন রায় বলেন, ‘বেলা ১১টার দিকে আমরা কয়েকজন শ্রমিক চালকলের বাইরে নাশতা করার জন্য আসি। কিছুক্ষণ পরে আমরা হইচই শুনে সেখানে ছুটে গিয়ে দেখি অনেকের শরীর পুড়ে গেছে। পরে আমরা সবাই মিলে আহত ব্যক্তিদের দিনাজপুর এম এ রহিম মেডিকেলে নিয়ে যাই।’

এম এ রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক সারওয়ার জাহান জানান, হাসপাতালে ২১ জনকে ভর্তি করা হয়। মারাত্মক দগ্ধ পাঁচজনকে সকালেই রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। পরে দগ্ধ ব্যক্তিদের বেশির ভাগেরই অবস্থার অবনতি হলে আরও ১৪ জনকে ওই হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তাঁর হাসপাতালে রয়েছেন মাত্র দুজন।

পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রঞ্জিনা (৪০) নামের এক নারী শ্রমিকের মৃত্যু হয়। রঞ্জিনার মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করে ওই হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের চিকিৎসক মারুফুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া বয়লার বিস্ফোরণে দগ্ধ ব্যক্তিদের বেশির ভাগই মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। তাঁদের শরীরের ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ পুড়ে গেছে।

এম এ রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা দুজন হলেন ট্রাকচালক সুমন হোসেন ও মো. রিপন। রিপন বলেন, তাঁরা সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা। বেলা ১১টায় তাঁরা ওই রাইস মিলে যান চাল আনতে। রিপন বলেন, ‘আমি চাল ওঠানোর জন্য ট্রাকের ওপরে উঠি। হঠাৎ বিকট আওয়াজ হয়। এরপর আমি আর কিছু বলতে পারি না।’

যমুনা অটো রাইস মিলের মালিক সুবল ঘোষসহ মালিকপক্ষের কাউকেই ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি।

এমই