চট্টগ্রাম মহানগরী উত্তর শিবিরের উদ্যোগে শুক্রবার বিকালে পবিত্র মাহে রমজানকে স্বাগত জানিয়ে র্যালীর আয়োজন করা হয়েছে।
এসময় ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী উত্তর সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম বলেন, হিজরি সনের নবম মাস রমজান। মহান সৃষ্টিকর্তা রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের পবিত্র এই রমজান মাসকে আত্মশুদ্ধি ও প্রশিক্ষণের মাস হিসেবে মুসলমানদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
নানা ফজিলত, তাৎপর্য ও শিক্ষা নিয়ে প্রতি বছর এ মাসটির আগমনে মুমিন-মুসলমানের জীবনে নেমে আসে সংযম ও পূণ্যের উৎসব। পূণ্যময় এই মাসকে তাকওয়া অর্জনের অনুশীলনের জন্য এবং ইবাদত-বন্দেগি পালন ও আল্লাহর নৈকট্য হাসিলের উপায় হিসেবে নেয়া প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অবশ্য কর্তব্য।
একই সাথে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের পাশপাশি এই মাস থেকে নেয়া শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সারা বছর জুড়ে বাস্তবায়নই হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য। কেননা রোজার মাধ্যমে বান্দা আত্মশুদ্ধি অর্জন করার সুযোগ লাভ করে থাকে।
এক মাস রোজা রেখে বাকি এগারো মাস নিজেকে পাপমুক্ত রাখার সংকল্প গ্রহণ করার সুযোগ পায়। রোজা মানুষকে গরিব-দুঃখীর কষ্ট অনুধাবনে সহায়তা করে। রোজার মাধ্যমে সহমর্মিতা ও সহনশীলতার শিক্ষা লাভ করেন।
তাছাড়া মানব জাতির জীবন বিধান পবিত্র আল-কুরআন রমযান মাসেই নাযিল করা হয়েছে মানুষের হেদায়েতের জন্য। এ মাস ধৈর্য্য, তিতীক্ষা ও সবরের। ধৈর্য্যরে প্রতিফল হিসেবে আল্লাহর নিকট থেকে জান্নাত লাভ করা যাবে। এ মাসে আল্লাহ মুমিন বান্দাদের রিযিক প্রশস্ত করে দেন।
এ মাসে যে ব্যক্তি কোনো রোযাদারকে ইফতার করাবে এর বিনিময়ে তার গুণাহসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হবে এবং জাহান্নাম হতে তাকে মুক্তি ও নিষ্কৃতি দেয়া হবে। আর সে ব্যক্তিকে আসল রোযাদারের সমান সাওয়াব দেয়া হবে।
তাই তিনি পবিত্র এ মাসে আটক সকল রাজবন্দীর মুক্তি দাবী, মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখা, খোদাদ্রোহী নাস্তিকদের সব অপতৎপরতা রুখে দিয়ে বেশি পরিমাণ কুরআন অধ্যয়ন, সকল প্রকার অশ্লীলতা, মদ-জুয়া, দিনের বেলা হোটেল-রেস্তোরা বন্ধ রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
নগর উত্তর শিবির সেক্রেটারী এস কে সিকদার’র সঞ্চালনায় এতে আরো উপস্থিত ছিলেন শিবির নেতা কামাল উদ্দীন আ স ম রায়হান রিদুয়ানুল হক জিসান এম আনোয়ার আজহার প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন রোজা ইসলামের পঞ্চভিত্তির অন্যতম।অন্যান্য ইবাদতে ‘রিয়া’ বা প্রদর্শনেচ্ছা কাজ করার সম্ভাবনা থাকে যেমন- নামাজ, যাকাত, দান-সদকা ইত্যাদি।
কিন্তু রোজার মধ্যে রিয়া নেই। লোকচক্ষুর অন্তরালে পানাহারের সুযোগ থাকলেও একমাত্র আল্লাহকে ভয় করে সকাল-সন্ধ্যা রোজা পালন করে। এজন্য এ মাসে ইবাদত-বন্দেগিকেঅধিক পূণ্যময় করা হয়েছে। বক্তারা আদর্শিক জ্ঞানে নিজেকে একজন পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গঠনে মনোনিবেশ করার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান।
মাসুম/এমএনজে





