পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার ১২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দফতরি কাম-নৈশ্য প্রহরী নিয়োগে ঘুষ নেওয়ার আভিযোগ পাওয়া গেছে।

অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শিক্ষা অফিসে ৮/১১/২০১৪ইং তারিখে দড়িচর গাজীপুর স:প্রা: বিদ্যালয়ে ৫ জন, লাহুড়ী স:প্রা: বিদ্যালয়ে ৪ জন, টগড়া স:প্রা: বিদ্যালয়ে ৬ জন, কালাইয়া স:প্রা: বিদ্যালয়ে ১৩ জন, গাবগাছিয়া স:প্রা: বিদ্যালয়ে ৫ জন, খেজুরতলা স:প্র: বিদ্যালয়ে ৬ জন, ঘোষেরহাট সা:প্রা: বিদ্যালয়ে ৯ জন, পূর্ববালিপাড়া স:প্রা: বিদ্যালয়ে ৫ জন, খোলপটুয়া স:প্রা: বিদ্যালয়ে ৫ জন, টেংড়াখালী স:প্রা: বিদ্যালয়ে ৪ জন, পশ্চিম কলারন স:প্রা: বিদ্যালয়ে ৫ জন, সাউদ খালী টেপসাবুনিয়া স:প্রা: বিদ্যালয়ে ৪ জন দফতরিকাম-নৈশ্য প্রহরী নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেয়।

অনেক পরীক্ষার্থীরা ক্ষোবের সাথে জানায়, আমরা ২২/১/১৪ইং তারিখে দফতরি কাম-নৈশ্য প্রহরীতে দরখাস্ত করি। প্রায় এক বছর পর ২/১১/১৪ইং তারিখে পরীক্ষা নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে না নিয়ে অফিসের খেয়াল খুশিমত ৮/১১/১৪ইং তারিখ নিয়েছে।

পরীক্ষার্থীর অনেক অভিভাবক জানায়, প্রতি পরীক্ষার্থীর নিকট হইতে ৩-৪ লক্ষ টাকা দফতরি কাম-নৈশ্য প্রহরী নিয়োগ দেওয়ার জন্য নিয়েছে। কাকে চাকরি দিবে সেটা এখন পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না। অনেকে আবার বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও নিয়মনীতি ছাড়াই দরখাস্ত করেছে এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে।

খেজুরতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আওয়ামী লীগের নেতা মোঃ বজলুর রহমান মিন্টু জানায়, আমার বিদ্যালয়ে ৬ জন দরখাস্ত করেছে। নিয়মনীতি অনুসারে নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে রাজনৈতিক নেতারা অযোগ্য লোকের নিয়োগ দেওয়ার জন্য পায়তারা চালাচ্ছে। এলাকাবাসী ঐক্য হয়ে তা প্রতিরোধ করবে।

এছাড়া টগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আঃ জব্বার তালুকদার জানায়, আমার বিদ্যালয়ে ৬ জনে দরখাস্ত করেছে। যোগ্যতা ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হইবে। তবে স্থানীয় জাতীয় পার্টির জে.পির নেতার সুপারিশক্রমে একজনকে দরখাস্তের সুপারিশ দেওয়া হয়েছে। সে আবেদনকারী নারী ও শিশু ধর্ষণ মামলার আসামী। তাকে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন তদবির চলছে। ১২টি বিদ্যালয়ের দফতরি কাম-নৈশ্য প্রহরী পদে ৭৫ জন পরীক্ষার্থীর নিকট হইতে জন প্রতি প্রার্থীর নিকট হইতে ৩-৪ লক্ষ টাকা করে বিদ্যালয়ের সভাপতি, প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিইচ্ছুক এক আবেদনকারী জানায়, আমি ২ লক্ষ টাকা সুদে নিয়ে দফতরি কাম-নৈশ্য প্রহরী পদে নিয়োগ পাওয়ার জন্য জমা দেই। প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে সুদ গুনতে হয়। এই পর্যন্ত প্রায় লক্ষাধিক টাকার সুদ দিয়েছি চাকরি পাওয়ার আশায়। অদ্যবধি আমাদেরকে এখন পর্যন্ত নিয়োগ দেওয়ার উদ্দ্যেগ নেয়া হয়নি।

এই সব অনিয়ম এবং বিভিন্ন জটিলতা দেখে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিদ্ধার্থ সংকর কুণ্ডু নিয়োগ না দিয়েই তিনি অন্যথায় বদলি হয়ে যায়। তিনি আরো জানান, যোগ্যতা এবং নিয়মনীতি ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া দরকার। অনিয়মের কারণেই তিনি নিয়োগ দেয় নাই।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অতিরিক্ত দায়িত্বে অপূর্ব রানী জানায়, উপজেলা নিবার্হী অফিসার না থাকার কারণে ও বিভিন্ন জটিলতার থাকায় জিয়ানগরে ১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দফতরি কাম-নৈশ্য প্রহরী পদে দ্বিতীয় দফার আমরা নিয়োগ দিতে পারছি না। ৩০ মার্চের মধ্যে নিয়োগ দেওয়ার জন্য অফিস থেকে যথেষ্ট তাদিগ দিচ্ছে। এছাড়া তৃতীয় দফার দফতরিকাম-নৈশ্য প্রহরী নিয়োগের জন্য অর্ডার আসছে।

কেএইচ