নারায়ে তাকবির আল্লাহু আকবার, নারায়ে রিসালাহ ইয়া রাসুলুল্লাহ, নারায়ে দায়দারি, হুসাইন ইয়া জিন্দাবাদ, ইয়াজিদ ইয়া মুরদাবাদ। শ্লোগানে মুখরিত পুরান ঢাকার প্রতিটি অলিগলি। কেউ এসেছেন ট্রাকে। কেউ বা পায়ে হেটে। দূর দূরান্ত থেকে অনেকে এসেছেন। সাথে এনেছেন শরবত পানীয়। শুকনো কিছু খাবার। সবার পা খালি।
আজিমপুর এলাকায় এক ঝাঁক যুবক আর বয়স্ক লোকের মিলিত এমনি একটি মিছিলের নের্তৃত্ব দিচ্ছেন আলমগীর হোসেন। তার বাড়ি আবুল হাসনাত রোডে। যুব রিসালাহ কমিটির সভাপতি তিনি। কথা হয় তার সাথে।
তিনি টাইমনিউজবিডিকে বলেন, সেই ছোট বেলায় যখন বাবা যুবক বয়সী। তখনই বাবা আমাকে তার পিঠে চড়িয়ে তাজিয়া মিছিলে আনেন। এখন আমিও পরিণত। আমারও সন্তান আছে।
তিনি বলছেন, আমার ছেলেকেও আমার বাবার মতো করে পিঠে করে নিয়ে এসেছি। সাথে এনেছেন স্ত্রী হাজেরাকে।
তিনি বলেন, অনেকে এটাকে খারাপ ভাবে। কিন্তু যারা নবী (সা:) এর দুই দৌহিত্যকে হত্যা করেছিল তাদেরকে তো আমরা ইসলামে শত্রু বলেই জানি।
তিনি বলেন, নবী (সা:) এর দৌহিত্য হাসানকে কৌশলে বিষ পান করিয়ে হত্যা করেছিল ইয়াজিদ। পরে হোসেনকেও কারবালার প্রান্ততে হত্যা করে ইয়াজিদের সৈন্যরা। মৃত্যুকালে তাকে পানি পান করতে দেয়া হয়নি।
তিনি জানান, রাসুল (সা:) বলেছেন, আমার হাসান-হোসেন হলো আমার কলিজার টুকরা। যারা আমার হাসান-হোসেনকে কষ্ট দেয় তারা যেন আমারে কষ্ট দিলো। তাই আমরা নানা অনুষ্ঠান, ইতেকাফ আর শোক মিছিল করে থাকি মহররমের ১০ দিন। তবে এছাড়াও আমাদের ৪০ দিনের বিভিন্ন কর্মসূচী থাকে।
তিনি জানান, আমি নিজেই ২০ বছর ধরে বিভিন্নভাবে সাহায্য-সহযোগীতার মাধ্যমে তাজিয়া শোক মিছিল ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান পালন করে আসছি।
ট্রাকে করে মিছিল আর শ্লোগান দিতে আসা মানুষদের শরবত পান করাচ্ছেন যুব রিসালাহ কমিটির উপদেষ্টা সদস্য কাইয়ূম শাহসন্দ। তিনি বলেন, ২০ বছর ধরে তিনি তাজিয়া পালন করে আসছেন। মহররম মাসের চাঁদ উঠার পর থেকে ৪০ দিন অনুষ্ঠান চলবে। এর মধ্যে ১০ দিন তারা ফলমূল ছাড়া অন্য খাবার পরিহার করছেন।
আজিমপুরে কথা হয় ইসরাফিল ইসলাম নামে ২৪ বছর বয়সি এক যুবকের সাথে। তিনি এসেছেন ওমান থেকে। তিনি টাইমনিউজবিডিকে বলেন, প্রতিবছর শুধু মাত্র পরিবার আর এলাকার মানুষের সাথে তাজিয়া শোক মিছিল পালন করার জন্য দেশে আসি। গত মাসের ১৪ তারিখ দেশে এসেছেন। মহররমের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে আবার কর্মস্থলে ফিরে যাবেন তিনি।
১০ বছর ধরে টানা চাবুক মারছেন হাসান:
তাজিয়া পালন করতে এসে রক্তাক্ত হয়েছেন হাসান আহমেদ নামে রাজধানীর সদরঘাট বিবি রাউজা এলাকার এক যুবক। বাবা মা আর নিজের দুই সন্তানসহ ৮ সদস্যের পরিবার। করেন সাউন্ড সিস্টেমের ব্যবসা সোমবার রাতে তিনিও সদরঘাট এলাকায় আবেগাপ্লুত হয়ে ছুরি দিয়ে নিজের মাথা চিড়েন।
তিনি বলছেন, আমার নাম হাসান। নবীজীর এক নাতীর নামও হাসান। হোসেনকে যারা হত্যা করেছে তাদের প্রতি ঘৃনা জানিয়ে হোসেনের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে নিজের পিঠে চাবুক মারি। টানা ১০ বছর ধরে তিনি নিজের পিঠে চাবুক মেরে কারবালার রক্তাক্ত প্রান্তরের শোক ভোলার চেষ্টা করেন বলে জানান তিনি।
পাক পাঞ্জাতন যুব রেসালাহ নামে অপর একটি তাজিয়া পালনকারী সংগঠনের সদস্য মকসুদুল বলেন, যারা নবী দৌহিতদ্বয়কে হত্যা করেছে তারা ইসলামের শত্রু। তাদের প্রতি ঘৃণা আর হাসান-হোসেনের জন্য এ শোক মিছিল।
জেইউ/এসএইচ





