বরগুনার তালতলীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত এক শিক্ষককে প্রকাশ্যে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছেন স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মিন্টু।
শিক্ষকের অভিযোগ, জমি দখলে এই নেতাকে বাধা দেওয়ার কারণে তাঁর ওপর এ নির্যাতন চালানো হয়েছে।
আর নির্যাতিত ব্যক্তি হলেন অংকুজানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুন্দর আলী গাজী।
গত বৃহস্পতিবার উপজেলার তালতলী বন্দর এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে শিক্ষক সুন্দর আলী গাজী (৫৫) কয়েকজনের সঙ্গে তালতলী বন্দরের বাবুল মিয়ার মায়ের দোয়া হোটেলে চা পান করছিলেন। হঠাৎ চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান সেখানে হাজির হন।
এরপর টেনেহিঁচড়ে ও হকিস্টিক দিয়ে পেটাতে পেটাতে তাঁকে দোকানের বাইরে নিয়ে যান। এরপর গালাগাল করতে করতে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে তাঁর (চেয়ারম্যান) কক্ষে নিয়ে যান।
সেখানে আটকে মোটা লাঠি দিয়ে দ্বিতীয় দফা সুন্দর আলীকে বেধড়ক পেটাতে থাকেন। তাঁর চিৎকারে লোকজন সেখানে জড়ো হয়ে তাঁকে মারধর না করার জন্য অনুরোধ করেন।
কিন্তু তিনি নিবৃত্ত হননি। কক্ষে চেয়ারম্যানের গাড়িচালক কালু মিয়া ও সাত-আটজন সহযোগী উপস্থিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, মারধরের একপর্যায়ে সুন্দর আলী অসুস্থ হয়ে পড়লে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপসহকারী চিকিৎসা কর্মকর্তা বাবু মং ফোকে ডেকে নিয়ে তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
মারধরে ঘাড় ও মাথার কিছু অংশ ফেটে শিক্ষকের জামাকাপড় রক্তে ভিজে গেলে নতুন জামা এনে পরানো হয়।
রাত নয়টার দিকে তালতলী থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. হানিফ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন। তাঁর সামনে ৩০০ টাকার একটি সাদা স্ট্যাম্পে সই রেখে পৌনে ১০টার দিকে ছেড়ে দেওয়া হয় তাঁকে। এ সময় আত্মীয়স্বজন এসে তাঁকে বাড়ি নিয়ে যান।
বর্তমানে ওই শিক্ষক বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবুল আক্তার, মারধরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
চিকিৎসা কর্মকর্তা বাবু মং ফো বলেন, ‘উপজেলা চেয়ারম্যান সাহেব আমাকে ডাকার পর তাঁর কার্যালয়ে যাই এবং সুন্দর আলীকে অসুস্থ অবস্থায় দেখি। তাঁর ঘাড়, মাথা ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। সেখানে বসেই তাঁর ঘাড়ে ড্রেসিং করি।’
শিক্ষকের স্ত্রী শামসুন্নাহার নাসিমা অভিযোগ করেন, তাঁদের কেনা একখন্ড জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিচ্ছেন উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মিন্টু। জমি না ছাড়লে ৬০ লাখ টাকা দিতে হবে।
অন্যথায় সুন্দর আলীর হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেয়া হয়েছিলো। এসব ঘটনার জের ধরেই সুন্দর আলীর ওপর এ হামলা চালানো হয়েছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘ঘটনার পর এসপি সাহেবকে ফোন করেছিলাম। তিনি থানায় মামলা করতে বলেছেন। কিন্তু মামলা করে কী হবে। ওদের বিরুদ্ধে মামলা করলে আমরা এলাকায় থাকতে পারব না।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে যুবলীগ নেতা মনিরুজ্জামান বলেন, সুন্দর আলী প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করেছেন; একজনের বায়না করা জমি কিনেছেন। এ কারণে তাঁকে মারধর করা হয়েছে।
এআই





