পবিত্র ইদুল ফিতরের ছুটিতে পর্যটকদের ঢল নেমেছে পর্যটন শহর বান্দরবানে। শহরের ছোট-বড় শতাধিক হোটেল, মোটেল ও গেস্ট হাউজ গত ২৮ জুলাই থেকে আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত বুকিং রয়েছে।
প্রতিদিনই সারাদেশ থেকে বান্দরবানে ভ্রমণে আসছেন শত শত পর্যটক। এবার জেলা শহরের হাফেজঘোনার মোড়ে পালকি নামের একটি গেস্ট হাউস এবং প্রধান সড়কের পাশে হিলকুইন নামের আরও একটি আবাসিক হোটেল যোগ হয়েছে পর্যটকদের আরামদায়ক আবাসনের জন্যে। ঈদের পরদিন থেকেই অসংখ্য পর্যটকের আগমন ঘটছে বান্দরবানে। দেশের রাজনৈতিক অবস্থা স্বাভাবিক থাকায় ঈদের আগে থেকেই অর্থাৎ ২৮ জুলাই থেকে পর্যটকরা আসছে। ঈদের পর জেলার আশেপাশের অঞ্চল থেকে বিভিন্ন বয়সী হাজার হাজার মানুষের উপচেপড়া ভিড়ে পুরো শহর পরিণত হয়েছে মিলন মেলায়। এ অবস্থা চলবে আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত।
জেলা শহরের অদূরে মেঘলায় পর্যটন হোটেলের পরিচালক হুমায়ুন কবির, জেলা শহরের প্রেসক্লাবস্থ হোটেল গ্রীনহিলের মালিক সিরাজুল ইসলাম, নতুন আবাসিক হোটেল পালকি’র পরিচালক আলাউদ্দিন শাহরিয়ার এবং মো. শাফায়েত হোসেন জানিয়েছেন, তাদের হোটেলের রুমগুলো ঈদুল ফিতরের দু’দিন আগে থেকে আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত টানা বুকিং দেয়া আছে পর্যায়ক্রমিকভাবে ভ্রমণ পিপাসুদের পক্ষে।
জেলা আবাসিক হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি হুমায়ুন কবির বলেন, রাজনৈতিক পরিবেশ স্বাভাবিক থাকলে প্রতিদনিই কোটি টাকার লেন-দেন হয় পর্যটন খাতে। এতে হোটেল, গেস্ট হাউস, মোটেল ও খাবার হোটেলসহ পরিবহণ সেক্টরে প্রতিদিনই কমপক্ষে ৫০ লাখ টাকা আয় হয়।
পর্যটন সেক্টরের উদ্যোক্তারা জানান, জেলায় প্রতি মৌসুমে বিশেষ করে জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত তিন মাসে (পিকআওয়ার) গড়ে ১০ লাখ দেশি-বিদেশি পর্যটকের আগমন ঘটে। এ সময় কয়েক হাজার লোক মজুরি সুবিধা পায়।
জেলা শহর এবং জেলার নানাস্থানে স্থাপিত সরকারি ও বেসরকারি পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে সাজানো হয়েছে পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন থেকে গ্রহণ করা হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থাও।
পার্বত্য জেলা শহর এবং আশেপাশের প্রধান প্রধান পর্যটন কেন্দ্রগুলো হচ্ছে, মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র, আধুনিক শৈলীসমৃদ্ধ ও স্থাপত্যে অবকাঠামোয় নির্মিত নীলাচল পর্যটন কেন্দ্র, সোনালী রংয়ের বুদ্ধ ধাতু মন্দির, রামজাদি মন্দির, সেনানিবাসের শাপলা চত্বর, ৩টি পুরানো রাজবাড়ি, শৈল প্রপাত, মেঘলায় স্থাপিত ক্যাবলকার ও ২টি ঝুলন্ত সেতু এবং মিনি চিড়িয়াখান। তাছাড়াও জেলার রুমা উপজেলায় রিজুক ঝর্ণা, পাহাড়ের ভাজে ভাজে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর পাড়া-গ্রাম, কিংবদন্ডির বগালেক, ক্যক্রাডং, তাজিংডং, রামজু পাহাড়া, সেনাবাহিনী পরিচালিত আধুনিক স্থাপত্যের নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্র, থানছির উজানে সাংগু নদীর বুকের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা রাজাপাথর, রেমাক্রি ঝর্ণা ও নাফাকুম পর্যটন কেন্দ্র বিশেষ কারুকার্যে সাজানো হয়েছে। প্রতিবছরের মত এবারও ঈদুল ফিতরের টানা ছুটি ও বন্ধে সময় কাটাতে সারাদেশ থেকে হাজার হাজার পর্যটক জেলা শহরের আবাসিক হোটেল, মোটেল ও গেস্ট হাউসে উঠেছে এবং অগ্রিম বুকিংও দেয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক কে এম তারিকুল ইসলাম বলেন, পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা বন্ধ ও ছুটিতে এবারও এ জেলায় কয়েক লাখ পর্যটকের আগমন ঘটতে পারে। তিনি পর্যটকদের জন্য বিশেষ ট্যুর গাইডের ব্যবস্থাও রয়েছে বলে জানান।
জেলা প্রশাসক জানান, প্রশাসনের উদ্যোগে পর্যটকদের ভ্রমণ ব্যবস্থায় যাতে করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়, পরিবহণের জন্যে অতিরিক্ত ভাড়া না নেয়া হয় এবং আবাসিক হোটেল ও খাবার হোটেলগুলোতে ন্যায্য মূল্য বা ভাড়া আদায় করা হয় সেই সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
ঢাকা, ৩০ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) //জেডআই





