উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘কোমেন’ সামান্য উত্তর দিকে সরে গিয়ে একই এলাকায় স্থির হয়ে আছে। এটি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যে চট্টগ্রাম উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। মৌসুমি লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার পর বুধবার মধ্যরাতে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘কোমেন’ এ রূপ নেয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক শাহ আলম বলেন,ঘূর্ণিঝড়টি বর্তমানে স্থির অবস্থায় অবস্থান করছে। সন্ধ্যার পর উপকূল অতিক্রম করতে পারে। পরে বৃষ্টি ঝরিয়ে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এটি একটি দুর্বল ঘূর্ণিঝড়। এর বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১০০ কিলোমিটার হতে পারে। পূর্ণিমার সঙ্গে জোয়ার আগামীকাল পর্যন্ত থেকে যাবে।
ঘূর্ণিঝড় কোমেনের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা ও দ্বীপগুলোতে ঝড়ো হাওয়া বইছে। ইতোমধ্যে ঝড়ের প্রভাবে ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এরমধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে উপড়েপড়া গাছের চাপায়। তারা হলেন কক্সবাজারের সেন্ট মার্টিনে মো. ইসলাম (৫০), পটুয়াখালীর গলাচিপায় মো. নুরুল ইসলাম ফকির (৫২) ও ভোলার লালমোহন উপজেলায় মনজুমা বেগম (৫৫) নামে তিনজন মারা গেছেন।
এছাড়া কক্সবাজারের মহেশখালীতে নৌকাডুবি ও দেয়াল ধসে তিনজন নিহত হয়েছেন। মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) দিদারুল ফেরদৌস সংবাদমাধ্যমকে জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া খবর পেয়ে মহেশখালী উপকূলে ফেরত আসার সময় তাজিয়াকাটা ও সোনাদিয়া পয়েন্টে আটজন জেলে নিয়ে নৌকাটি ডুবে যায়।
এরপর সাঁতার কেটে কোনো রকম ছয়জন জেলে তীরে উঠলেও দুইজন জেলে নিখোঁজ থাকে। পরে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় তাজিয়ারকাটা এলাকা থেকে নিখোঁজ দুই জেলের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন- তাজিয়ারকাটা গ্রামে জেলে কালা মিয়া (৩৪) ও সাইফুল (২৫)।
বৃহস্পতিবার ভোরে একই উপজেলার পাহাড়তলী এলাকায় দেয়াল ধসে হুমাইরা বেগম (৫) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়। হুমায়রা বেগম বড় মহেশখালীর পাহাড়তলী গ্রামের ছৈয়দ নুরের মেয়ে।
গতকাল বুধবার মধ্যরাতেই কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন ও টেকনাফ উপকূলে আঘাত হেনে উত্তর-পূর্ব দিকে চট্টগ্রাম উপকূলের দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। এরই মধ্যে কক্সবাজারে অতিরিক্ত ৩-৫ ফুঠ উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়েছে অর্ধশতাধিক গ্রাম। কক্সবাজারের মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও পেকুয়া উপজেলার বেশিরভাগ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
এর আগে দুপুর ১২টায় আবহাওয়া দফতরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘কোকেন’ চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৮০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২০৫ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ পূর্বে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছিল। সকাল নয়টায়ও এটি একই অবস্থানে ছিল। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ও কক্সবাজারে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত এবং মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে পাঁচ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রে ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে।
কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, ভোলা এবং এসব জেলার অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো সাত নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে পাঁচ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এছাড়া বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং এসব জেলার অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ পাঁচ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।
এআর





