আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) বান্দরবান জেলা শাখা কার্যালয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ তল্লাশি চালিয়েছে। জেলা শহরের মধ্যম পাড়া এলাকার কার্যালয়ে গত রোববার রাত ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত একঘণ্টা এ অভিযান চালানো হয় বলে জেএসএসের পক্ষে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে ই-মেইলে পাঠানো ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তালা ভেঙে কার্যালয়ে প্রবেশ করে তল্লাশি চালানোর সময় আলমারি ও আসবাব ভেঙে ফেলা হয়। কার্যালয়ের বিভিন্ন দলিলপত্র তছনছ করা হয়েছে। কার্যালয় থেকে ডেস্কটপ কম্পিউটারের সিপিইউ, ইন্টারনেটের মডেম, একটি ডিজিটাল ক্যামেরা, মুঠোফোন ও ফাইলপত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়েছে।
জেএসএসের জেলা সাধারণ সম্পাদক ক্য বা মং মারমা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে তল্লাশি অভিযানের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয়েছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং বান্দরবানের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলবে। দমন-পীড়ন বন্ধ করা না হলে জেএসএস কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবে।
তল্লাশি অভিযানের বিষয়ে বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় বলেন, জেএসএস কার্যালয়ে সেনাবাহিনীর তল্লাশি অভিযানে পুলিশ সহযোগিতা করেছে। সেখানে কী পাওয়া গেছে, সেনাবাহিনী থেকে তা জানানো হয়নি।
এদিকে জেএসএসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও দাবি করা হয়, বান্দরবান জেলা কার্যালয়ে তল্লাশি চালানো ছাড়াও রোববার রাত সাড়ে ১১টায় লামা উপজেলা জনসংহতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন আসামের বাড়িতেও সেনা ও পুলিশ সদস্যরা তল্লাশি চালান। বাড়ি থেকে সমিতির থানা কমিটির দাপ্তরিক কাগজপত্র নিয়ে যান তাঁরা। এ ছাড়া গত বৃহস্পতিবার রোয়াংছড়ি শাখা কার্যালয়েও তল্লাশি চালানো হয়।
জেএসএসের একটি সূত্র জানায়, গত ১৩ জুন বান্দরবান সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মংপু মারমা অপহরণের ঘটনায় করা মামলার পর থেকে জেলা ও রোয়াংছড়ি উপজেলার শীর্ষ নেতাদের অনেকে আত্মগোপনে রয়েছেন।
জেএসএস কার্যালয়ে তল্লাশি অভিযানের বিষয়ে সেনাবাহিনীর বান্দরবান সদর জোনের অধিনায়ক লে. কর্নেল মহিউদ্দিন হায়দার গতকাল মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জেএসএস কার্যালয়ে তল্লাশি চালানো হয়েছে। কার্যালয় থেকে যে সরঞ্জাম ও দলিলপত্রগুলো আনা হয়েছে, যাচাই শেষে সেগুলো ফেরত দেওয়া হবে।
এসএ





