মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় রাস্তা নিয়ে বিরোধে ছাত্রলীগ নেতার হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন দুই শিক্ষক।
মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্র কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি শহিদুজ্জামান রাজীব বুধবার সকালে ওই দুই শিক্ষককে লাঞ্ছিত করেছেন বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।
শহিদুজ্জামান রাজীব ওই গ্রামের মৃত ইমাম মোল্লার ছেলে।
লাঞ্ছিতরা হলেন, ফুলহারা আঞ্চলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিল্পী আক্তার ও সহকারী শিক্ষক আবুল কালাম।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিল্পী আক্তার জানান, রাজীবের বাড়ির পাশ দিয়ে বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা যাতায়াত করলে তাদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করতেন রাজীবের পরিবার ও রাজীব। এ কারণে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গত বছরের ডিসেম্বরে বিদ্যালয়ের দু’টি ভবনের মধ্যে প্রায় ২৫ ফুট দৈর্ঘ্যরে ইটের প্রাচীর নির্মাণ করেন। এতে বিদ্যালয়ের ওপর দিয়ে রাজীবের বাড়ি যাওয়ার রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। এ নিয়ে রাজীবের সঙ্গে শিক্ষকদের বিরোধ সৃষ্টি হয়।
সহকারী শিক্ষক আবুল কালাম জানান, শনিবার রাজীব বিদ্যালয়ের ভেতর দিয়ে রাস্তা বের করার জন্য প্রাচীরের কিছু অংশ ভেঙে ফেলেন। এ ছাড়াও তিনি ছাত্রীদের কমনরুম ও অষ্টম শ্রেণীর কক্ষের দরজা ভেঙে ফেলেন। এ ঘটনায় পরেরদিন রাজীবের বিরুদ্ধে ঘিওর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন তিনি। এতে রাজীব ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
এ অবস্থায় বুধবার সকাল ৯টায় বিদ্যালয় চালাকালে বারান্দা দিয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিলেন রাজীব। এ দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করেন প্রধান শিক্ষক। এক পর্যায়ে রাজীব মোটরসাইকেল দিয়ে প্রধান শিক্ষককে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করে চলে যান। মোবাইলে ভিডিও ধারণ করা হয়েছে শুনে একটু পরেই রাজীব বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসে প্রধান শিক্ষককে গালিগালাজ করতে থাকেন। রাজীবের সঙ্গে তার মা ও বোনও গালিগালাজ করেন শিক্ষকদের।
এ সময় ওই প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক এগিয়ে গেলে রাজীব তাদের লাঞ্ছিত করেন। এদিকে, এ ঘটনা জানাতে প্রধান শিক্ষক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। এর পরপরই শিক্ষকদের লাঞ্ছিতের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দেয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে গিয়ে রাজীব শিক্ষার্থীদের হুমকি-ধমকি দেওয়ার সময় শিক্ষকরা তাকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেন।
ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবা আইরিন জানান, শিক্ষকদের কাছ থেকে এ ঘটনা শুনে পুলিশকে আইনি ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
ঘিওর থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) শওকত আলম জানান, রাজীবকে বিদ্যালয়ের প্রাচীর ও দরজা ভাঙার অভিযোগে গ্রেফতার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
মানিকগঞ্জ সরকারি বেদেন্দ্র কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ সিকদার বলেন, বিষয়টি আমরা শুনেছি। তদন্ত করে দোষী প্রমাণিত হলে রাজীবের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেএইচ





