ঝিনাইদহে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকার সময় নজরুল ইসলাম নামে এক কলেজ শিক্ষকসহ চারজনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করেছে পুলিশ।
শহরের কুষ্টিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার সততা ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে একটি প্যাথলজিক্যাল ক্লিনিক থেকে রোববার রাতে তাদেরকে আটক করা হয়। আটক নজরুল ঝিনাইদহ শিশুকুঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজের কৃষিশিক্ষা বিষয়ের প্রভাষক ও শহরের আরাপপুর মাস্টারপাড়ার মৃত রজব আলীর ছেলে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রেমের ফাঁদে ফেলে নারীদের সম্ভ্রমহানি করে থাকেন নজরুল। আটককৃত অন্যরা হলেন- শহরের কুষ্টিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার সততা ডায়াগোনস্টিক সেন্টারের মালিক আরাপপুর এলাকার আব্দুল খালেকের ছেলে আকরামুজ্জামান , শৈলকুপার ভাটই বাজারের আনসার আলীর মেয়ে তুলি খাতুন ও হরিণাকুণ্ডুর গাড়াবাড়িয়া গ্রামের আবু বক্করের ছেলে আবুহান।
ঝিনাইদহ সদর থানার উপপরিদর্শক সালাহউদ্দীন জানান, রোববার রাতে ঝিনাইদহ শহরের আরাপপুর এলাকার সততা ক্লিনিকে নজরুল ইসলাম এক যুবতীকে নিয়ে অসামাজিক কাজে লিপ্ত হন। এলাকাবাসী বিষয়টি জানতে পেরে কলেজ শিক্ষক নজরুলসহ চারজনকে আটক করে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের থানায় নিয়ে আসে।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাবুদ্দীন আজাদ জানান, অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি মামলা হয়েছে। এদিকে এ খবর সংগ্রহের জন্য রোববার রাতে কয়েকজন সংবাদকর্মী ঝিনাইদহ সদর থানায় গেলে ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক রাশিদা সুলতানা তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহের শিশুকুঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সফিকুল বাশার জানান, তিনি বিষয়টি জানতে পেরে কলেজের সভাপতিকে অবহিত করেছেন। ওই প্রভাষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
এলাকাবাসী জানান, শিশুকুঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজের কৃষিশিক্ষা বিষয়ের প্রভাষক নজরুল ইসলাম একজন লম্পট হিসেবে পরিচিত। তিনি বহু ছাত্রীকে প্রলোভন দেখিয়ে তাদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক করেছেন। বিশেষ করে কৃষিশিক্ষা পরীক্ষার খাতায় নম্বর দেওয়ার নাম করে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হতেন।
এছাড়া কৃষিশিক্ষার ব্যবহারিক পরীক্ষায় জোরপূর্বক টাকা আদায় করে ইতিমধ্যে শিক্ষার্থীদের কাছে বিতর্কিত হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে পত্রপত্রিকায় বহু খবর প্রকাশিত হলেও কলেজ কর্তৃপক্ষ অদৃশ্য কারণে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। শিশুকুঞ্জ স্কুলের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, টাকা ছাড়া নজরুল ইসলাম কৃষিশিক্ষায় কোনো নম্বর দিতেন না। অনেকটা জোর করেই তিনি টাকা আদায় করতেন।
ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই





