রাষ্ট্রীয় প্রশ্রয়েই সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ি খালে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ফেলার অভিযোগ তুলেছে বিএনপি।

দলটি বলছে, জনগণ বিশ্বাস করে, অশুভ উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রের প্রশ্রয়ে এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র খালে ফেলা হয়েছিল। সন্দেহভাজন জঙ্গি ধরা, রিমান্ডে নিয়ে ক্রসফায়ারে হত্যা এবং উত্তরার খালে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার একই যোগসূত্রে গাঁথা। যা একটি মহাপরিকল্পনার অংশ।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আজ বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব বলেন।

উত্তরায় খালে অস্ত্রের মজুদ নিয়ে বিএনপি-জামায়াত জোটকে ইঙ্গিত করে ঢাকার পুলিশ কমিশনারের দেয়া বক্তব্যের তীব্র সমালোচনাও করেন রিজভী।

রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। এসময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবীর খোকন ও হারুনুর রশীদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, উত্তরার অস্ত্র উদ্ধারের এলাকাটি তিন স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে আবদ্ধ। সুতরাং অশুভ উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রের প্রশ্রয়ে এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উত্তরার খালে ফেলা হয়েছিল বলে জনগণ বিশ্বাস করে।

উল্লেখ্য, গত শনিবার উত্তরার ১৬ নম্বর সেক্টরের দিয়াবাড়ি খাল থেকে ৯৭টি পিস্তল, ৪৬২টি ম্যাগাজিন, এক হাজার ৬০টি গুলি, ১০টি বেয়নেট ও ১০৪টি গুলি তৈরির ছাচ উদ্ধার করা হয়। পরদিন এক কার্টন বন্দুকের ম্যাগজিন উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে গত সোমবার এক ব্রিফিংয়ে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বিএনপি-জামায়াত জোটকে ইঙ্গিত করে বলেন, নারী-শিশু হত্যায় জড়িত চক্রটিই ওই অস্ত্র মজুদ করেছিল বলে তাদের ধারণা।

ডিএমপি কমিশনারের ওই বক্তব্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যেরই প্রতিধ্বনি মন্তব্য করে রিজভী বলেন, তর বক্তব্য অনভিপ্রেতই নয়, তার বক্তব্য প্রধানমন্ত্রীর স্বভাবসুলভ বক্তব্যের সমতুল্য। কোনো ঘটনা ঘটলেই প্রধানমন্ত্রী যেমন চট করে বলে দেন যে, এটার সাথে বিএনপি জড়িত। ঠিক তেমনিও তার পুলিশ কমিশনারের বক্তব্যে শুনে মনে হয়েছে, তিনি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারি নন, শেখ হাসিনার কর্মচারি। তার বক্তব্যে আওয়ামী নেতাদের বক্তব্যের প্রতিধ্বনি হয়েছে। মনে হয়েছে, ঢাকার পুলিশ কমিশনার আওয়ামী লীগ নামীয় দলটির পোর্টফোলিও হোল্ডার।

উত্তরায় উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলো মূলত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমদানি ও ব্যবহার করে দাবি করে রিজভী বলেন, উদ্ধারকৃত পিস্তলগুলোর মধ্যে ৯৫টিই ৭.৬২ বোরের, যা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে থাকে।

ওই অস্ত্রের রহস্য উদঘাটিত হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, এটি আর রহস্যের মধ্যে নেই। ক্রমাগতভাবে রহস্যের কুয়াশা ভেদ করে মানুষের মনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, তাদের (আইনশৃঙ্খলা বাহিনী) সহযোগিতা ছাড়া তুরাগ নদীর খালে এসব অস্ত্র পৌঁছাত না। ওই অস্ত্রগুলো আনা হয়েছিল অপরাধীদের জন্য, যারা অপরাধ সংঘটন করে।

রিজভী এসময় প্রশ্ন রাখেন, মানুষের মনে আরো সন্দেহ তীব্র হয়ে উঠেছে যে, কীভাবে প্রকাশ্য দিনের বেলায় নম্বর প্লেট ছাড়া একটি কালো রঙের পাজারো গাড়ি এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র খালে ফেলে চলে গেল? কারণ এলাকাটি তিন স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তার মধ্যে আবদ্ধ, যা গণমাধ্যমের প্রতিবেদনেও প্রকাশিত হয়েছে।

বন্দুকযুদ্ধ নিয়ে পুলিশের বক্তব্য জনগণ বিশ্বাস করে না দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, এগুলোকে জনগণ ‘ঠাণ্ডা মাথার খুন’ বলেই বিশ্বাস করে। এমনকি সরকারের একজন মন্ত্রীও বলেছেন, পুলিশ ব্যর্থ হয়ে ক্রসফায়ার দিচ্ছে। প্রকৃত জঙ্গি ধরতে ব্যর্থ হয়ে এবং চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডগুলোর রহস্য উৎঘাটন করতে না পেরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেদারছে ক্রসফায়ার দিচ্ছে। এতে প্রতীয়মাণ হয় যে, পুলিশের বন্দুকযুদ্ধ সত্যকে চেপে রেখে ন্যায়কে কবর দেয়া, প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করে ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক ফয়দা লুটতে সহায়তা করা।

এমআইএস